মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ইয়ংসটাউনে এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইরানের নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো প্রয়োজনের চেয়ে বেশি দূর এগিয়ে গেছে। এর ফলে এখন দেশটির সঙ্গে কথা বলার জন্য কাকে খুঁজে বের করতে হবে, তা বুঝতে পারছে না তাঁর প্রশাসন।
ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমরা হয়তো নেতাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দূর চলে গেছি, কারণ আমরা এখন আর বুঝতে পারছি না কার সঙ্গে কথা বলব।’
তিনি আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তিনি স্বীকার করেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো সত্যিই বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে।
ইরানের নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে মার্কিন পদক্ষেপের সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কারণ, সামরিক চাপের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে কোনো সংঘাতের সমাধান খোঁজার ক্ষেত্রেও প্রতিপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের কার্যকর পথ থাকা জরুরি। আলোচনার জন্য নির্ভরযোগ্য প্রতিনিধি চিহ্নিত করতে না পারলে সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান তাদের বিমানবাহিনী এবং ১৫৯টি জাহাজ হারিয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজগুলো এখন সমুদ্রের তলদেশে পড়ে আছে। তবে এসব ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের স্বাধীন যাচাইযোগ্য তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, গত ১ অক্টোবর থেকে বাণিজ্যিক জলযানগুলোতে অন্তত ১৯টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথগুলোতে এ ধরনের হামলা জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায়। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
ইরানকে ঘিরে চলমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের বক্তব্য তাই দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এনেছে—একদিকে দেশটির সামরিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করার বিষয়ে তাঁর প্রশাসনের দাবি, অন্যদিকে আলোচনার জন্য উপযুক্ত নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জটিলতা। সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি এবং আলোচনার উপযুক্ত পরিবেশ প্রতিষ্ঠার ওপর।
তবে ট্রাম্পের মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক উদ্যোগের তথ্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।









