মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান। তিনি বলেন, ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও গুদামগুলোর ভেতরে থাকা মালামাল সরানো এবং আগুনের অবশিষ্ট অংশ সম্পূর্ণ নেভানোর কাজ শেষ হয়নি।
কাজী নজমুজ্জামান জানান, গুদামগুলোতে বিপুল পরিমাণ পণ্য ঠাসা অবস্থায় ছিল। এ কারণে আগুন পুরোপুরি নেভাতে সময় লাগছে। ক্ষতিগ্রস্ত মালামাল সরানোর সময় মাঝেমধ্যে ধোঁয়া বের হচ্ছে। এসব স্থানে পানি ছিটিয়ে আগুনের অবশিষ্ট অংশ নেভানোর চেষ্টা করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এ কাজে এখনো ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে নিয়োজিত রয়েছে।
তালা কেটে গুদামে প্রবেশ, বাধা সরু রাস্তা
অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে বেশ কয়েকটি প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের। সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান বলেন, গুদামগুলোর দরজায় তালা লাগানো ছিল। কোনো কোনো দোকানে তিন থেকে চারটি তালার পাশাপাশি কলাপসিবল গেটও ছিল। ফলে তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে আগুন নেভানোর কাজ করতে হয়েছে।
পুরান ঢাকার সরু রাস্তার কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে প্রবেশ করতেও সমস্যায় পড়েছে। পাশাপাশি ভবনের ভেতরে জমে থাকা ধোঁয়া বের হওয়ার পর্যাপ্ত পথ না থাকায় আগুন নেভানোর কাজ আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
পানির স্বল্পতাও ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। কাজী নজমুজ্জামান জানান, পানির রিজার্ভ বারবার শেষ হয়ে যাচ্ছিল। আগুন পুরোপুরি নেভাতে প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে গিয়ে কর্মীদের বাড়তি সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় মার্কেটের দোকানদার ও স্থানীয় বাসিন্দারা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সহযোগিতা করেন। তাঁদের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণ ও পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তবে তীব্র তাপ ও প্রচণ্ড ধোঁয়ার মধ্যে কাজ করতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের চার সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পেতে অপেক্ষা
অগ্নিকাণ্ডে কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা এখনই বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা। তাঁর মতে, গুদামগুলোতে কী পরিমাণ পণ্য মজুত ছিল এবং সেগুলোর কতটা আগুনে নষ্ট হয়েছে, তা নির্ধারণ করতে সময় লাগবে। গুদামের মালিকেরা তাঁদের মজুতপণ্য ও ক্ষতিগ্রস্ত মালামালের হিসাব দিতে পারলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণ করা সহজ হবে।
এদিকে আগুন লাগার কারণও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কাজী নজমুজ্জামান বলেন, আগুন পুরোপুরি নেভানোর পর ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত করা হবে। এ জন্য ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
ভবনটিতে বিদ্যুতের সংযোগ ছিল। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ভবনটিতে কেউ বসবাস করতেন, এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে আগুনের অবশিষ্ট অংশ সম্পূর্ণ নেভানো, ক্ষতিগ্রস্ত মালামাল সরানো এবং ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের কাজই অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
চকবাজারের এই অগ্নিকাণ্ডে তালাবদ্ধ গুদাম, সরু প্রবেশপথ, ধোঁয়া বের হওয়ার সীমিত ব্যবস্থা এবং পানির সংকটের মতো বিষয়গুলো অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমকে জটিল করে তুলেছে। তদন্তের পর আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যেতে পারে। একই সঙ্গে গুদামের মালিকদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।









