আবুধাবি টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে লড়াইয়ে নতুন করে আশার আলো দেখল বাংলাদেশ। দীর্ঘ সময় উইকেটের দেখা না পাওয়ার পর ইবাদত হোসেনের বলে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের দুর্দান্ত ক্যাচে সাজঘরে ফিরেছেন ইকরাম আখিলি। গুরুত্বপূর্ণ এই উইকেটের সুবাদে আফগানিস্তানের একটি শক্তিশালী জুটি ভাঙতে সক্ষম হয় টাইগাররা। তবে ম্যাচ জিততে হলে বাংলাদেশের বোলারদের সামনে তখনো কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছিল।
দিনের শুরু থেকেই উইকেট পেতে মরিয়া ছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। পেস ও স্পিন—দুই ধরনের বোলিং দিয়েই আফগান ব্যাটারদের চাপে ফেলার চেষ্টা চলছিল। কিন্তু ব্যাট হাতে দৃঢ়তা দেখিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটাররা বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ সামলে নিচ্ছিলেন। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে উইকেট না পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই হতাশা বাড়ছিল বাংলাদেশ শিবিরে।
এর মধ্যে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে রান নিতে গিয়ে ফিল্ডারের থ্রোতে চোট পান আফগান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শাহিদি। ব্যথার কারণে তাঁকে মাঠ ছাড়তে হয়। তবে শাহিদির মাঠ ছাড়ার ঘটনাও বাংলাদেশের বোলারদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো সুবিধা এনে দিতে পারেনি। আফগানিস্তানের ব্যাটাররা নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলে যাওয়ায় উইকেটের অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছিল।
এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ইবাদত হোসেন ও লিটন দাস। ইবাদতের বলে ইকরাম আখিলি পুল শট খেলতে গেলে উইকেটের পেছনে ক্ষিপ্রগতিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত ক্যাচটি নেন লিটন। তাঁর অসাধারণ ক্ষিপ্রতা ও নিখুঁত দক্ষতায় ৩৩ রানে থামতে হয় ইকরামকে।
এই উইকেটটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ইকরাম ও আতাল মিলে ৬৬ রানের জুটি গড়ে আফগানিস্তানের ইনিংসকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন। তাঁদের জুটি ভাঙার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বোলাররা আবারও প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরির সুযোগ পান। টেস্টের শেষ দিনে এমন একটি উইকেট শুধু স্কোরবোর্ডেই পরিবর্তন আনে না, বোলারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও সহায়তা করে।
লিটন দাসের উইকেটরক্ষণের দক্ষতা বাংলাদেশের জন্য আগেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই ক্যাচেও তাঁর দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও বলের গতিপথ বুঝে নেওয়ার ক্ষমতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ইবাদতের বলকে উইকেটে রূপ দিতে লিটনের অবদান ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। বোলার ও উইকেটরক্ষকের এই সমন্বয় বাংলাদেশের জন্য ম্যাচে ফেরার পথ তৈরি করতে পারে।
ইবাদত হোসেনও বল হাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করছিলেন। প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁর শিকার ছিল তিনটি উইকেট। আফগানিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে আরও ধস নামাতে পারলে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা বাড়ত। তবে তার জন্য প্রয়োজন ছিল ধারাবাহিকভাবে সঠিক লাইন ও লেংথে বল করা এবং প্রতিপক্ষকে সহজে রান করার সুযোগ না দেওয়া।
প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত আবুধাবি টেস্টের পঞ্চম দিনে দ্বিতীয় ইনিংসে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ছিল চার উইকেটে ২০৩ রান। জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল আরও ২৭৭ রান। অন্যদিকে বাংলাদেশের সামনে জয়ের সমীকরণ ছিল ছয়টি উইকেট তুলে নেওয়া।
এই পরিস্থিতিতে দুই দলের লক্ষ্য ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। আফগানিস্তানের ব্যাটারদের জন্য প্রয়োজন ছিল উইকেটে টিকে থাকা, ধৈর্য ধরে রান সংগ্রহ করা এবং জুটি গড়ে লক্ষ্যপূরণের দিকে এগিয়ে যাওয়া। বাংলাদেশের বোলারদের লক্ষ্য ছিল দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের প্রতিরোধ ভেঙে দেওয়া।
টেস্ট ক্রিকেটে পঞ্চম দিনের লড়াইয়ে ব্যাটারদের ধৈর্য, বোলারদের নিয়ন্ত্রণ এবং ফিল্ডারদের দক্ষতা ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে বড় লক্ষ্য তাড়া করার সময় উইকেট ধরে রাখা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি প্রতিপক্ষের বোলারদের জন্য প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগানোও জরুরি। বাংলাদেশের জন্য তাই লিটনের এই ক্যাচ ছিল গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত।
ইকরামের বিদায়ের পর আফগানিস্তানের ব্যাটিংয়ের ওপর চাপ ধরে রাখাই ছিল বাংলাদেশের প্রধান কাজ। একের পর এক উইকেট তুলে নিতে পারলে জয়ের সম্ভাবনা জোরালো হতো। অন্যদিকে আফগান ব্যাটাররা যদি দীর্ঘ সময় উইকেটে থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারতেন, তাহলে বাংলাদেশের জন্য জয় পাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারত।
সব মিলিয়ে, ইবাদতের বোলিং ও লিটনের অসাধারণ ক্যাচে নতুন করে লড়াইয়ে ফেরার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে সেই সুযোগকে জয়ে পরিণত করতে হলে বাকি উইকেটগুলোও দ্রুত তুলে নেওয়া জরুরি ছিল। আবুধাবি টেস্টের শেষ দিনের এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কোন দল নিজেদের পরিকল্পনা কার্যকর করতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করছিল ম্যাচের পরিণতি।









