খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ই জুলাই ২০২৬, ১০:১২ পিএম

সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইনস্টাগ্রামে তাঁর পোস্ট করা একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও বা রিল প্রকাশের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিউয়ের সমস্ত রেকর্ড গুঁড়িয়ে দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পোস্ট করা ৪০ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের একটি সেলফি ভিডিও প্রথম দিনেই দেখা হয়েছে ৩০ কোটি ৩০ লাখ বার। বর্তমানে যার ভিউ প্রায় ৩৩ কোটির কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
এই রেকর্ডের মধ্য দিয়ে বিশ্বখ্যাত একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া তারকাকে পেছনে ফেলেছেন মোদি। এর আগে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩০ কোটি ভিউয়ের বিশ্বরেকর্ড ছিল মার্কিন ইউটিউবার আইশোস্পিডের ঝুলিতে। দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড ‘বিটিএস’-এর সদস্যদের সাথে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাতের একটি ভিডিও এই রেকর্ডটি গড়েছিল। এবার সেই রেকর্ড টপকে শীর্ষে চলে এলেন মোদি। শুধু ভিউ নয়, নতুন এই ভিডিও পোস্টের পর তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এক লহমায় নতুন ১০ লাখের বেশি অনুসারী যুক্ত হয়েছেন।
তবে এই ভাইরাল ভিডিওর পেছনে ছিল এক ভিন্ন প্রেক্ষাপট। ভারতে সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বেঁধে উঠছিল। আন্দোলনরত এই তরুণের সঙ্গে দূরত্ব কমাতেই মূলত বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৫২ মিনিটে ভিডিওটি আপলোড করা হয়। ভিডিওতে মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে সরকারের কড়া অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, অপরাধীদের বাঁচাতে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং জড়িতদের বিচারে বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ক্ষতি এড়াতে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে নতুন আইনি পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, ডিজিটাল মাধ্যমে ‘জেন-জি’ বা উদীয়মান তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যেই সাধারণ ও ঘরোয়া ভঙ্গিতে কথা বলেছেন মোদি। এমনকি মধ্যরাতে পোস্ট করার সময় বেছে নেওয়াটাও ছিল কৌশলগত, কারণ ওই সময়েই তরুণরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকেন।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার ঠিক একদিন পর আবারও ইনস্টাগ্রামে উপস্থিত হয়ে অনুগামীদের সারপ্রাইজ দেন মোদি। মাত্র ২৪ সেকেন্ডের একটি নতুন বার্তায় তিনি তরুণদের এই অভূতপূর্ব সমর্থন, মূল্যবান প্রতিক্রিয়া এবং গঠনমূলক পরামর্শের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
দ্বিতীয় বার্তার শুরুতেই তিনি আবেগভরে বলেন, “ধন্যবাদ বন্ধুরা।” তিনি উল্লেখ করেন, নাগরিকদের এমন সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং মতবিনিময় মূলত দেশের প্রশাসনিক নেতৃত্ব ও জনগণের মধ্যকার সম্পর্ককে বহুগুণ শক্তিশালী করে তোলে। আগামী দিনেও তরুণদের ভালোবাসা ও সহযোগিতার এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্তব্য