আশরাফ হোসেন (১৯৩৯ – ১৮ জুলাই ২০২০) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন রাজনীতিবিদ এবং খুলনা-৩ ও বিলুপ্ত খুলনা-৭ আসনের সাবেক সাংসদ। তিনি ১৯৭৯, ১৯৯১,ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
Table of Contents
আশরাফ হোসেন | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন
১৯৩৯ সালে আশরাফ হোসেন কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নাল্লা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। প্রাথমিক শিক্ষা নাল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সম্পন্ন করে।
রাজনৈতিক ও কর্মজীবন
আশরাফ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব। তিনি ছিলেন খুলনা জুট ওয়ার্কার্স ইনস্টিটিউটের সভাপতি। ১/১১-এর সময় সংস্কারপন্থী অভিযোগ থাকায় রাজনীতি থেকে দূরে আছেন তিনি।[৭] তিনি ১৯৭৯,[১] ১৯৯১,[২] ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬[৩] ও ২০০১[৪] সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
মৃত্যু
হোসেন ১৮ জুলাই ২০২০ ঢাকার একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন পরে তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নাল্লা গ্রামে তাকে তার মা বাবার কবরের পাশে দাফন করা হয় । তিনি দীর্ঘদিন থেকে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই দল প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৭ সালে ৩০ এপ্রিল জিয়াউর রহমান তার শাসনকে বেসামরিক করার উদ্দেশ্যে ১৯ দফা কর্মসূচি শুরু করেন। জিয়া যখন সিদ্ধান্ত নিলেন যে তিনি রাষ্ট্রপতির পদের জন্য নির্বাচন করবেন তখন তার নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) প্রতিষ্ঠিত হয়। এই দলের সমন্বয়ক ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।
ইতিহাস
প্রতিষ্ঠা
জাতীয় সংসদ নির্বাচন এগিয়ে আসলে জিয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠন করেন। জাগদলকে বিএনপির সাথে একীভূত করা হয়। রাষ্ট্রপতি জিয়া এই দলের সমন্বয়ক ছিলেন এবং এই দলের প্রথম চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এর প্রথম মহাসচিব ছিলেন। জিয়ার এই দলে বাম, ডান, মধ্যপন্থি সকল প্রকার লোক ছিলেন। বিএনপির সবচেয়ে প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল এর নিয়োগ পদ্ধতি। প্রায় ৪৫ শতাংশ সদস্য শুধুমাত্র রাজনীতিতে যে নতুন ছিলেন তাই নয়, তারা ছিলেন তরুণ।

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টায় রমনা রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের যাত্রা শুরু করেন। জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণাপত্র পাঠ ছাড়াও প্রায় দুই ঘণ্টা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। সংবাদ সম্মেলনে নতুন দলের আহ্বায়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি প্রথমে ১৮ জন সদস্যের নাম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর ওই ১৮ জনসহ ৭৬ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন।
এখানে উল্লেখ্য, বিএনপি গঠন করার আগে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) নামে আরেকটি দল তৎকালীন উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে সভাপতি করে গঠিত হয়েছিল। ২৮ আগস্ট ১৯৭৮ সালে নতুন দল গঠন করার লক্ষ্যে জাগদলের বর্ধিত সভায় ওই দলটি বিলুপ্ত ঘোষণার মাধ্যমে দলের এবং এর অঙ্গ সংগঠনের সকল সদস্য জিয়াউর রহমান ঘোষিত নতুন দলে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।