জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

অর্থপাচার অর্থনীতিকে সংকুচিত করছে: গভর্নরের সতর্কতা

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ. মানসুর সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ আলোচনায় সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক কয়েক বছরে ব্যাপক পরিমাণ অর্থপাচারের কারণে দেশের আর্থিক খাত উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে। এই আলোচনাটি দেশের ব্যাংকিং খাতকে আরো কার্যকর ও স্বচ্ছ করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘নগদহীন লেনদেন’ প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছিল। গভর্নর মানসুর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন যে, দেশের আর্থিক ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত এবং সম্প্রসারণ করতে অবিলম্বে সমন্বিত ও শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

গভর্নর মানসুর বলেন, “আমাদের এখন যে মূল লক্ষ্য, তা হলো আর্থিক খাতকে সম্প্রসারিত করা এবং অর্থের সরবরাহ বৃদ্ধি করা। তবে এটি কেবলমাত্র মুদ্রা ছাপিয়ে সম্ভব নয়। বরং, আমাদের একটি শক্তপোক্ত ও কাঠামোবদ্ধ পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে, যাতে বৈধ অর্থনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে তরল অর্থ প্রবাহিত করা যায়।”

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশব্যাপী নগদহীন লেনদেন প্রচারণার অংশ হিসেবে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম চালাচ্ছে। কক্সবাজারে ‘বাংলা কিউআর কোড’ ব্যবহারের ওপর দুইদিনব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে প্রধান সহযোগী হিসেবে অংশ নিয়েছে SSL কমার্স। এর আগে ঢাকার বাইরের ১১টি শহরে অনুরূপ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং ধাপে ধাপে এই উদ্যোগ পুরো দেশব্যাপী সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কর্মসূচির মূল উপস্থাপনাগুলি করেছেন পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্টের পরিচালক রাফেজা আকতার কান্তা এবং অতিরিক্ত পরিচালক এমডি পারভেজ আনজাম মুনির। গভর্নর মানসুর আরও উল্লেখ করেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলারের ওপরে পৌঁছেছে, যা ঘরোয়া অর্থনীতিতে সীমিত হলেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তিনি সতর্ক করেছেন যে, অর্থ সরবরাহ বৃদ্ধি করার সময় মূল্যস্ফীতির নিয়ন্ত্রণও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। “চীন, ভারত ও ভিয়েতনামের তুলনায়, বাংলাদেশের মোট অর্থ সরবরাহ GDP-এর সাথে এখনও যথেষ্ট কম,” তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, প্রবাসী আয়, বৈদেশিক বিনিয়োগ ও ঋণের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহিত হলে ব্যাংকিং খাত আরও শক্তিশালী হবে।

গভর্নর অতীতের অর্থপাচারের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেছেন: “যদি এই সম্পদগুলো দেশের মধ্যে থাকত, বর্তমান অর্থনীতি অনেক বেশি শক্তিশালী হতো। তাই এই সম্পদগুলোকে ধাপে ধাপে সঠিক চ্যানেলের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।” তিনি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন এবং ফিনটেক উদ্ভাবন ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত উল্লেখ করেছেন।

আলোচনায় ডিজিটাল লেনদেন ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব বিশেষভাবে প্রতিপাদিত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের ২৮% লেনদেন ডিজিটাল হলেও জনসচেতনতার অভাব বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করছে। সাশ্রয়ী মূল্যের স্মার্টফোন সরবরাহের মতো পদক্ষেপ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় যুক্ত হতে সহায়তা করতে পারে।

সমাপনী বক্তব্যে গভর্নর মানসুর পুনর্ব্যক্ত করেন, সুশৃঙ্খল ও ডিজিটালি অন্তর্ভুক্ত আর্থিক ব্যবস্থা দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি বজায় রাখার এবং আধুনিকীকরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য অপরিহার্য।

Tags :

Jim

Recent News