ডলারের শক্তিতে স্বর্ণবাজারে চাপ

আন্তর্জাতিক বাজারে বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) স্বর্ণের দাম নিম্নমুখী পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মূল কারণ হিসেবে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ (Fed) সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়ার প্রত্যাশাকে উল্লেখ করেছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, লেনদেনের মাঝামাঝিতে স্পট গোল্ডের দাম ০.৪% কমে প্রতি আউন্সে ৪,০৬৩.৮১ ডলারে নেমেছে। এছাড়া ডিসেম্বর ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারের দামও ০.৫% কমে প্রতি আউন্সে ৪,০৬৩.৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষক কেলভিন ওং মন্তব্য করেছেন, “গত দুই সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় স্বর্ণের দাম বর্তমানে নিম্নমুখী। বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের পরিবর্তে ডলারের দিকে ঝুঁকছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ফলাফলেরও বাজারের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়ছে।”

দেশীয় বাজারে বৃহস্পতিবার প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ৫২০ টাকায়। এর আগে বুধবার (১৯ নভেম্বর) বাজুস স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ২,৬১২ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। দেশের বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

দেশের বাজারে সর্বশেষ স্বর্ণের দাম (প্রতি ভরি)

ক্যারেট/পদ্ধতিপ্রতি ভরির দাম (টাকা)
২২ ক্যারেট (পিওর গোল্ড)২,০৯,৫২০
২১ ক্যারেট২,০০,৩০০
১৮ ক্যারেট১,৭১,৪২৬
সনাতন পদ্ধতি১,৪২,৫৯২

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গহনার ক্ষেত্রে স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫% ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬% মজুরি যোগ করতে হবে। এছাড়া গহনার নকশা, কারুকাজ ও মানভেদে মজুরি পরিবর্তিত হতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ও ডলারের শক্তিশালী অবস্থান বাংলাদেশের স্বর্ণবাজারকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত ঘোষণাগুলি দেশের বাজারেও স্বর্ণের দামের ওঠাপড়ার কারণ হতে পারে। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক রিপোর্ট এবং ফেডের নীতি সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।

বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীরা আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠা-নামা পর্যবেক্ষণ করে স্থানীয় বাজারে স্বর্ণ কেনাবেচা করছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার ও স্বর্ণের দামের পরিবর্তন সরাসরি দেশীয় বাজারে প্রতিফলিত হবে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ উৎসব বা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক রিপোর্ট প্রকাশের সময় স্বর্ণের দাম আরও অস্থির হতে পারে।

সার্বিকভাবে বলা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারের নিম্নমুখী অবস্থার কারণে দেশের স্বর্ণবাজারেও দাম বাড়ার গতি ধীর হয়ে গেছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, বাজার বিশ্লেষণ এবং আন্তর্জাতিক ট্রেন্ড পর্যবেক্ষণ করে বিনিয়োগ করা।