সরকারি হাসপাতালে কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট, রোগী সেবাবঞ্চিত

দেশের সরকারি স্বাস্থ্য খাতে অদক্ষতা, অনিয়ম ও অপচয় চরমে পৌঁছেছে। কোটি কোটি টাকার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি কেনা হলেও বছরের পর বছর ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে বাইরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজে বুকে তীব্র ব্যথা নিয়ে ভর্তি হন তাছলিমা বেগম। প্রাথমিক ইসিজি করা হলেও ইকো, এনজিওগ্রাম বা প্রয়োজনীয় সিটি স্ক্যান সম্ভব হয়নি। কার্ডিওলজি বিভাগের ৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকার ক্যাথ ল্যাব দীর্ঘদিন অচল, ইকো-ইটিটিও চালু নেই। জনবল না থাকায় রোগীদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি পরীক্ষা করতে হয়।

ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজে প্রায় ৫৫ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ব্যবহারযোগ্য নয়। এর মধ্যে রয়েছে ক্যাথ ল্যাব, ২৩ কোটি টাকার এমআরআই, ৪ কোটি ৮২ লাখ টাকার ডিজিটাল এক্স-রে, সাত বছর ধরে বাক্সবন্দি রেডিওথেরাপি মেশিন। দক্ষ টেকনিশিয়ান ও বিশেষজ্ঞের অভাবে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ক্যান্সারের রোগীরা সেবা পাচ্ছেন না।

কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজেও একই চিত্র। ১৫০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি অচল। জনবল নিয়োগ সংক্রান্ত ফাইল অর্থ মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে। আংশিকভাবে কিছু বিভাগ চালু হলেও জরুরি বিভাগ এখনও বন্ধ। হাসপাতাল পরিচালক জানান, ‘জনবল ছাড়া সব সেবা চালু করা যাচ্ছে না। ফলে যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে।’

জাতীয় স্নায়ুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ব্যবহার হচ্ছে না। ম্যালেরিয়া কিট ও ব্লাড গ্লুকোমিটার প্রয়োজনীয় টেস্ট স্ট্রিপ না থাকায় চালু করা যায়নি।

বাংলাদেশ পাবলিক প্রোকিউরমেন্ট অথরিটির পর্যালোচনায় স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি, সময়ক্ষেপণ, একক দরদাতার নিয়ন্ত্রণ ও অচল যন্ত্রপাতি ধরা পড়েছে। পণ্য সরবরাহের আগেই টাকা পরিশোধ, নথি বিশৃঙ্খল—সব মিলিয়ে সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক সচিব মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘বেশ কিছু সমস্যা ধরা পড়লেও মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নিচ্ছে না। রোগীর জন্য সঠিক সেবা নিশ্চিত করা জরুরি।’

জিলাইভ/টিএসএন