খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ই সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪৫ পিএম

ভারতের উত্তরপ্রদেশের মহোবা জেলায় ভোটার তালিকা সংশোধনকাজে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। একটি ভাঙাচোরা ঘরের ঠিকানায় একসঙ্গে ৪ হাজার ২৭১ ভোটারের নাম নথিভুক্ত হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা বিস্মিত হওয়ার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়েও নানা প্রশ্ন তুলেছেন। খবর দিয়েছে মুসলিম মিরর।
মহোবার জৈতপুর গ্রামপঞ্চায়তের প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে ১৬ বাই ১৫ ফুটের এক কামরার একটি জীর্ণ ঘর। ছাদ ঝুঁকে পড়া, দেয়ালের প্লাস্টার খসে যাওয়া এবং সামনের সরু বারান্দাসহ ঘরটি একেবারেই সাধারণ একটি বাসা। অথচ কাগজপত্রে এই ঘরেই যেন আশ্রয় নিয়েছেন গ্রামটির মোট ভোটারের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।
বাড়ির মালিক প্রথমে বিষয়টি রসিকতা ভেবেছিলেন। কিন্তু বুথ অফিসার আনুষ্ঠানিকভাবে জানালে, তিনি ও প্রতিবেশীরা হতবাক হয়ে যান। স্থানীয়দের মন্তব্য—“পুরো গ্রাম একসঙ্গে দাঁড়ালেও ওই ঘরে ফিট হবে না।”
নির্বাচন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এটি কেবল ‘ক্লারিক্যাল ভুল’। তাদের মতে—
সহকারী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আর.পি. বিশ্বকর্মা বলেন, “ভোটাররা আসল। শুধু ঠিকানায় গরমিল।” অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কুনওয়ার পঙ্কজ সিং স্বীকার করেন, ২০২১ সালেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছিল।
একই ধরনের সমস্যা অন্যান্য জায়গাতেও
স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মী চৌধুরী রবীন্দ্র কুমার বলেন, “এটা কেবল অবহেলা নয়। এভাবে মানুষের গণতন্ত্রের ওপর আস্থা নষ্ট হচ্ছে।”
সম্প্রতি এআই-নির্ভর যাচাই অভিযানে মহোবা জেলায় এক লাখেরও বেশি সন্দেহজনক বা পুনরাবৃত্ত ভোটার শনাক্ত করা হয়।
| এলাকা | সন্দেহজনক ভোটার সংখ্যা |
| জৈতপুর | ২৪,০০০ |
| পানওয়ারি | ২২,০০০ |
| কবরাই | ৪৬,০০০ |
| চর্খারি | ১২,০০০ |
এ সমস্যা কাটাতে রাজ্য নির্বাচন কমিশন ২৭২টি গ্রামপঞ্চায়েতে ৪৮৬ জন বুথ-স্তরের কর্মকর্তা (বিএলও) ও ৪৯ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দিয়েছে। ঘরে ঘরে যাচাই অভিযান চলবে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ৫ ডিসেম্বর।
ভোটার তালিকার গরমিলে স্থানীয়দের আস্থা নষ্ট হচ্ছে। পানওয়ারির এক বাসিন্দার প্রশ্ন, “যদি কর্মকর্তারা হাজার হাজার ভোটারকে এক ঘরে গুঁজে দিতে পারেন, তবে আমাদের ভোট আসলেই নিরাপদ তো?”
রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিবেক ত্রিপাঠী বলেন, “এ ধরনের ভুল উপেক্ষা করলে তা গণতন্ত্রকে দুর্বল করে।” সমাজকর্মী রাম নারায়ণ মন্তব্য করেন, ভোটার তালিকার গরমিল “গণতন্ত্রের ভিত খেয়ে ফেলা উইপোকার মতো।”
আম আদমি পার্টির নেতা সঞ্জয় সিং অভিযোগ করেছেন, “এক ঘরে ৪ হাজার ২৭১ ভোটার—এটি সরাসরি ভোট ডাকাতির প্রমাণ। সিসিটিভি ফুটেজ ‘গোপনীয়তা’র অজুহাতে প্রকাশ না করাও সন্দেহ বাড়ায়। এভাবে চলতে থাকলে ভোট প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
মন্তব্য