চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের রাস্তায় শনিবার ভোরে দেখা গেল এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য—হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে একসাথে হাঁটছে ও দৌড়াচ্ছে ডজনখানেক দু-পেয়ে হিউম্যানয়েড রোবট। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এ ধরনের রোবট হাফ ম্যারাথনে অংশ নিলো, যা চীনের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির এক সাহসী প্রদর্শন হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
রাজধানীর ই-টাউন হাই-টেক শিল্পাঞ্চলে আয়োজিত এই ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রতিযোগিতায় মূল লক্ষ্য ছিল বাস্তব পরিবেশে দুই পায়ে চলা রোবটগুলোর সক্ষমতা যাচাই করা। রোবটগুলো দৌড় শুরু করে স্টার্টারের গুলির সঙ্গে, আর পেছনে বেজে চলছিল চীনা পপ গান ‘আই বিলিভ’।
দৌড়ের শুরুতেই দর্শনার্থীদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। কেউ কেউ মোবাইলে দৃশ্য ধারণ করছিলেন। একটি ছোট রোবট পড়ে গিয়ে কিছু সময় মাটিতে শুয়ে ছিল, পরে নিজে নিজেই উঠে দাঁড়ালে করতালির ঝড় ওঠে। আবার এক প্রপেলারচালিত রোবট রেলিংয়ে ধাক্কা খেয়ে এক প্রকৌশলীর ওপর পড়ে যায়।
ই-টাউনের উপ-পরিচালক লিয়াং লিয়াং বলেন, “মানুষের কাছে এটি হয়তো ছোট একটি পদক্ষেপ, কিন্তু রোবট প্রযুক্তির জন্য এটি বিশাল অগ্রগতি।” প্রকৌশলীরাও রোবটের সঙ্গে সমান্তরালে দৌড়ে অংশ নেন।
চীনের নানা প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ২০টি দল এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। রোবটগুলোর উচ্চতা ৭৫ থেকে ১৮০ সেন্টিমিটার এবং ওজন সর্বোচ্চ ৮৮ কেজি পর্যন্ত ছিল। কিছু রোবট চলেছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে, আর কিছু রিমোট নিয়ন্ত্রণে।
প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য ছিল রোবটের কর্মক্ষমতা, সহনশীলতা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই। কার আগে শেষ করল, সেটাই মুখ্য ছিল না।
নোয়েটিক্স রোবটিকসের ২৮ বছর বয়সী প্রকৌশলী ছুই ওয়েনহাও বলেন, “এই আয়োজন গোটা রোবটিকস শিল্পের জন্য একটি বড় প্রেরণা। আমাদের রোবট প্রতিদিনই হাফ ম্যারাথনের অনুশীলন করেছে, প্রতি কিলোমিটারে গড় সময় ছিল সাত মিনিট।” তিনি যোগ করেন, “আমরা একটি ব্যাকআপ রোবটও প্রস্তুত রেখেছিলাম।”
আরেক তরুণ প্রকৌশলী কং ইচ্যাং, যিনি ড্রয়েডআপ কোম্পানির প্রতিনিধি, জানান, “এই আয়োজন ভবিষ্যতের রোবট-সম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডের ভিত্তি তৈরি করবে এবং রোবটকে মানব সমাজে একীভূত হওয়ার পথে এগিয়ে নেবে।”
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীন দীর্ঘদিন ধরেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবট প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। চলতি বছর জানুয়ারিতে চীনের একটি স্টার্টআপ দাবি করে, তারা এমন এক চ্যাটবট তৈরি করেছে যা মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় আরও সাশ্রয়ী। তাছাড়া চীনা নববর্ষ উপলক্ষে রোবটের নৃত্য পরিবেশন ছিল আরেক নজরকাড়া উদাহরণ।
