জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

বারহাট্টায় জুয়ার আসরে দুই ইউপি সদস্যসহ গ্রেপ্তার পাঁচ

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় দোকানে বসে জুয়া খেলার অভিযোগে দুই ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১২ আগস্ট) দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার আসমা ইউনিয়নের হরিয়াতলা গ্রামের পাকারাস্তা সংলগ্ন মেম্বার মার্কেটের একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বারহাট্টা থানার একটি দল রাতের দিকে মেম্বার মার্কেটের সাব্বিরের দোকানে অভিযান পরিচালনা করে। সেখানে গিয়ে পুলিশ জুয়ার আসর দেখতে পায়। পরে অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে আসমা ইউনিয়ন পরিষদের দুই সদস্য রয়েছেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন হরিয়াতলা গ্রামের নবীনেওয়াজের ছেলে ও আসমা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য লিটন মিয়া (৫০), একই এলাকার আলতাফুর রহমান আলতু মেম্বারের ছেলে সাব্বির আহমেদ (৩২), উপেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বশর্মার ছেলে হিরেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বশর্মা (৪২), ছয়গাঁও গ্রামের সামছুদ্দিনের ছেলে ও আসমা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এমদাদুল হক হীরা (৪০) এবং চানফর আলীর ছেলে একদিল মিয়া (৩৮)।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এবং পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হরিয়াতলা গ্রামের পাকারাস্তা সংলগ্ন মেম্বার মার্কেট এলাকায় আগে থেকেই জুয়া খেলার অভিযোগ ছিল। ওই এলাকার একটি দোকানে নিয়মিতভাবে জুয়ার আসর বসার অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগও ছিল বলে জানা গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে সেখানে জুয়ার আসর বসার খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়।

অভিযানের পর গ্রেপ্তার পাঁচজনকে থানায় নেওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত জুয়া প্রতিরোধ আইনে মামলা করার প্রক্রিয়া শুরু করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।

বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চম্পক দাম বলেন, জুয়া, মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জুয়া প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বারহাট্টা থানায় জুয়া খেলার অভিযোগে এটি প্রথম মামলা। স্থানীয় পর্যায়ে জুয়ার আসরকে ঘিরে অর্থনৈতিক ক্ষতি, পারিবারিক বিরোধ এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো এলাকায় জুয়ার আসর বসার তথ্য পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মাদক ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যকে গুরুত্ব দিয়ে তা যাচাই করার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জুয়া প্রতিরোধে পুলিশের এমন অভিযানকে স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রকাশ্যে বা দোকানকেন্দ্রিক জুয়ার আসর গড়ে উঠলে তা সামাজিক পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি এবং অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

তবে গ্রেপ্তার পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে বিচারিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। মামলা দায়েরের পর আদালতে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আদালতে নিজেদের বক্তব্য ও আইনি অধিকার উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন।

Tags :

Shourav Gurukul

Recent News