সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম (১ জানুয়ারি ১৯৫২ – ৩ জানুয়ারি ২০১৯) ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও মন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ষষ্ঠ সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম
সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম

 

প্রাথমিক জীবন

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ময়মনসিংহে ১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলামের বড় ছেলে, যিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন। আশরাফুল ইসলাম ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

 

google news
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

কর্মজীবন ও রাজনৈতিক জীবন

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পিতার হত্যাকাণ্ডের পর, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম যুক্তরাজ্যে চলে যান। লন্ডনে বসবাসকালে তিনি বাংলা কমিউনিটির বিভিন্ন কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন এবং লন্ডন যুবলীগের সদস্য ছিলেন। তিনি ফেডারেশন অব বাংলাদেশী ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের (এফবিওয়াইইউ) শিক্ষা সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৬ সালে দেশে ফিরে, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে, তিনি পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। আব্দুল জলিল গ্রেপ্তার হওয়ার পর, তিনি আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

২০০৯ সালে মন্ত্রিসভা গঠিত হলে, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হন। ২০১৫ সালে সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর, তাকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করা হয় এবং পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

 

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম
সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম

 

ব্যক্তিগত জীবন

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ব্রিটিশ ভারতীয় সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারের শীলা ঠাকুরের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। শীলা লন্ডনে শিক্ষকতা করতেন এবং ২৩ অক্টোবর ২০১৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাদের একমাত্র মেয়ে রীমা ঠাকুর লন্ডনের এইচএসবিসি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন।

অসুস্থতা ও মৃত্যু

শীলা ঠাকুরের মৃত্যুর পর, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে তার ফুসফুসের ক্যান্সার চতুর্থ স্তরে পৌঁছায়। ২০১৯ সালের ৩ জানুয়ারি ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে দেশের বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। ৬ জানুয়ারি ঢাকার বনানী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ছিলেন একজন সৎ, নির্লোভ ও মডারেট ব্যক্তিত্বের অধিকারী, যিনি তার রাজনৈতিক জীবনে সকলের সম্মান ও ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন।

Leave a Comment