সৈয়দ কামরুল ইসলাম সালেহ উদ্দিন (২ জুলাই ১৯৩৭ – ২৪ মে ১৯৮৩), যিনি এস কে আই এম সালাহউদ্দিন এবং ডাকনাম ‘জংগু’ নামেও পরিচিত, ছিলেন একজন বাংলাদেশি আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, পূর্ব পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য (MNA), গণপরিষদ সদস্য (MCA) এবং ফরিদপুর-৩ (বর্তমান ফরিদপুর-১) আসনের প্রথম জাতীয় সংসদ সদস্য (MP)।
সৈয়দ কামরুল ইসলাম সালেহ উদ্দিন । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

প্রারম্ভিক ও পারিবারিক জীবন
সৈয়দ কামরুল ইসলাম সালেহ উদ্দিন ১৯৩৭ সালের ২ জুলাই (ম্যাট্রিকুলেশন সনদ অনুযায়ী ৩ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯) গোপালগঞ্জ জেলার টিটা গ্রামে তাঁর মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার বনমালীদিয়া গ্রামে।
তাঁর পিতা সৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল হালিম ছিলেন বেঙ্গল সিভিল সার্ভিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস (EPCS) ক্যাডারের উপসচিব। তাঁর মাতা সালেহা খাতুন। তিনি ভাইবোনের মধ্যে জ্যেষ্ঠ ছিলেন।
শিক্ষাজীবন
- মাধ্যমিক: ১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বরিশাল শহরে ভাষা আন্দোলনের মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় তিনি গ্রেপ্তার হন। কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বরিশাল বি.এম. ইনস্টিটিউট থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন।
- উচ্চ মাধ্যমিক: ১৯৫৬ সালে বাগেরহাট পিসি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন।
- স্নাতক: ১৯৫৯ সালে যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এম.এম.) কলেজ থেকে বি.এ. ডিগ্রি লাভ করেন।
- উচ্চতর আইন শিক্ষা: ১৯৬৩ সালে যুক্তরাজ্যে গমন করেন এবং ১৯৬৮ সালে লন্ডনের ইনার টেম্পল (Inner Temple) থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল সনদ অর্জন করেন।
কর্মজীবন
শিক্ষকতা ও চাকরি
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি পুরানো ঢাকার কে. এল. জুবিলী হাই স্কুলে শিক্ষকতা করেন এবং পরবর্তীতে চাঁদপুরের একটি বেসরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন। এছাড়াও তিনি বহুজাতিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘ফাইজারে’ (Pfizer) মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে কিছুদিন কর্মরত ছিলেন।
আইন পেশা
ব্যারিস্টারি সম্পন্ন করার পর তিনি যুক্তরাজ্যের হাইকোর্টের কুইন্স বেঞ্চ ডিভিশনে কিছুকাল আইন চর্চা করেন। পরবর্তীতে দেশে ফিরে ইস্ট পাকিস্তান হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে পেশাগত কাজ শুরু করেন এবং ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
রাজনৈতিক জীবন
ছাত্র ও যুব রাজনীতি
তিনি বরিশালের বিপ্লবী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মনোরমা বসুর সান্নিধ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন।
- ১৯৫৩–১৯৫৪: পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন, বরিশাল শাখার আহ্বায়ক।
- ১৯৫৩–১৯৫৪: বরিশাল শহর যুবলীগের সম্পাদক।
- ১৯৫৬–১৯৫৮: খুলনা জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সহ-সভাপতি।
- ১৯৫৭–১৯৫৮: বাগেরহাট পিসি কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস)।
যুক্তরাজ্যে সাংগঠনিক ভূমিকা (১৯৬৩–১৯৬৯)
যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে তিনি স্বাধিকার আন্দোলনের পক্ষে জনমত ও অর্থ সংগ্রহের কাজ করেন:
- ১৯৬৭: লন্ডনে গঠিত ‘৬-দফা আন্দোলন কমিটি’-র চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৮–১৯৬৯: ‘শেখ মুজিব ডিফেন্স ফান্ড’-এর লন্ডনস্থ আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- প্রবাসী বাঙালি ছাত্রদের সংগঠিত করতে ‘পাকিস্তান ইউথ ফেডারেশন’ গঠনে ভূমিকা রাখেন।
সংসদীয় রাজনীতি
- ১৯৭০ (পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ নির্বাচন): বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ সদস্য (MNA) নির্বাচিত হন।
- ১৯৭২ (গণপরিষদ): স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতা গণপরিষদের সদস্য (MCA) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৭৩ (১ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন): ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ফরিদপুর-৩ (বর্তমান ফরিদপুর-১: মধুখালী-বোয়ালমারী-আলফাডাঙা) আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
জীবনাবসান
সৈয়দ কামরুল ইসলাম সালেহ উদ্দিন ১৯৮৩ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

সংক্ষিপ্ত তথ্যপঞ্জি
| বিষয় | বিবরণ |
| পূর্ণ নাম | সৈয়দ কামরুল ইসলাম মোহাম্মদ সালেহউদ্দিন (জংগু) |
| জন্ম | ২ জুলাই ১৯৩৭ (ম্যাট্রিক সনদ: ৩ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯) |
| মৃত্যু | ২৪ মে ১৯৮৩ |
| পেশা | ব্যারিস্টার, আইনজীবী, শিক্ষক ও রাজনীতিবিদ |
| রাজনৈতিক দল | বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ |
| সংসদীয় আসন | ফরিদপুর-৩ (বর্তমান ফরিদপুর-১) |
| পদবি | প্রাক্তন MNA, MCA, প্রথম জাতীয় সংসদ সদস্য (MP) |








