খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই নভেম্বর ২০২২, ৫:১৪ পিএম
মানিক চৌধুরী ২০ ডিসেম্বর ১৯৩৩ – ১০ জানুয়ারি ১৯৯১) হলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি ২০১৫ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
Table of Contents

মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ভাষা সৈনিক প্রয়াত কমান্ড্যান্ট মানিক- চৌধুরীর ৮৭ তম জন্মবাষির্কীতে গত ২০ ডিসেম্বর ২০২০ইং উন্মুক্ত হয়েছে ‘হবিগঞ্জ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও মানিক -চৌধুরী পাঠাগার’। এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মতি ও কমান্ড্যান্ট কন্যা আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর নিরলস প্রচেষ্টার এক স্বপ্ন বাস্তবায়ন । এই ভবনটি কমান্ড্যান্ট মানিক -চৌধুরীর নিজস্ব ভূমির উপর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে । এতে থাকছে মুক্তিযুদ্ধকালীন ৩২৭ টি স্মারক। জাদুঘর ভবনের নকশা করেন মুক্তিযোদ্ধা স্থপতি নূরুল করিম দিলু। ২০১৮ সালের ৭ মার্চ এই ভবণ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন মানিক -চৌধুরীর স্ত্রী বেগম রোকেয়া চৌধুরী। পাঁচতলা বিশিষ্ট জাদুুঘর ও পাঠাগারের ভবণ নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ণ করে জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ।
ভবনে দোতলায় আছে কমান্ড্যান্ট মানিক- চৌধুরীর নামে একটি অত্যাধুনিক পাঠাগার। এতে রয়েছে দেশ বিদেশের বরেণ্য লেখকের বই। সপ্তাহের শুক্রবার, শনিবার ও মঙ্গলবার খোলা থাকে এ পাঠাগার । দৃষ্টিনন্দন ও কল্যাণমুখী এ পাঠাগার স্থানীয় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত বাতিঘর হিসেবে সমাদৃত । অসাম্প্রদায়িক মনোভাবের স্পষ্ট নিদর্শন স্বরূপ এ পাঠাগার ধারণ করছে বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থাদি। এর পরিচালক পরিষদ সদস্য ও বাস্তবায়নকারীর (আমাতুল কিবরিয়া কেয়া) সমাজ কল্যাণের যে অভিলাষ তা পূরণে পাঠাগারটি ভ্রাম্যমাণ বিভিন্ন সেবা কার্যক্রমও চালায়।
তিনি ১৯৩৩ সালের ২০ ডিসেম্বর হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার সন্তান এডভোকেট আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী সংসদ সদস্য হিসাবে হবিগঞ্জ জেলার প্রতিনিধিত্ব করেন।

বৃহত্তর সিলেটে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় বিশেষ ভূমিকা রাখেন তিনি; মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখ সমরে সরাসরি অংশগ্রহণের পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদেরও সংগঠিত করেন তিনি।মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে অস্ত্রের প্রয়োজন তার নেতৃত্বে হবিগঞ্জ সরকারি অস্ত্রাগার লুট করা হয় এবং এপ্রিলের প্রথম দিকে সরাসরি অংশ নেন সিলেট অঞ্চলের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ও বড় যুদ্ধ হিসাবে পরিচিত শেরপুর-সাদিপুর যুদ্ধে।
সম্মুখ সমরে অংশ নেয়ার পাশাপাশি ৩ নং ও ৪ নং সেক্টরে সৈন্য, অস্ত্র, খাদ্য সরবরাহসহ ভারতের খাৈয়াই ও কৈলাশহরের মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ প্রশিক্ষণের দায়িত্ব পালন করায় মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে চীফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল এম. এ. রব তাকে সিভিলিয়ান হওয়া সত্ত্বেও “কমান্ড্যান্ট” উপাধিতে ভূষিত করেন।
তিনি ৬ দফা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণসহ তৎকালীন সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে হবিগঞ্জ থেকে এম.এন.এ. এবং ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন সিলেট-১৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন । ১৭ জুলাই ১৯৭৫ সালে তিনি বাকশাল সরকারের হবিগঞ্জ মহকুমার গভর্নর নিযুক্ত হন। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিবাদের জন্য মানিক- চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে চার বছর কারারুদ্ধ করে রাখা হয়।

তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে যথাযথ চিকিৎসা, এমনকি একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়েও পিজি হাসপাতালে কোনো ওয়ার্ডে একটি সিট বরাদ্দ পাননি। এমতাবস্থায় ১৯৯১ সালের ১০ জানুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
“শ্যামল” প্রকল্পের জন্য তিনি ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নিকট থেকে “বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক” গ্রহণ করেন। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে ২০১৫ সালের “মরণোত্তর” স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়।
আরও দেখুনঃ
মন্তব্য