ইন্টার মায়ামির কোচিং কাঠামোয় আকস্মিক পরিবর্তনের পর দায়িত্ব পান স্পোর্টিং ডিরেক্টর গুইলেরমো হোয়োস। জাভিয়ের মাসচেরানোর হঠাৎ পদত্যাগের পর তিনি প্রধান কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তার প্রথম ম্যাচেই ইন্টার মায়ামি কলোরাডো র্যাপিডসকে তিন দুই ব্যবধানে পরাজিত করে। ম্যাচে লিওনেল মেসি করেন জোড়া গোল।
শনিবার অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে জয় পাওয়ার মাধ্যমে ইন্টার মায়ামি টানা সাত ম্যাচে অপরাজিত থাকার ধারাবাহিকতা ধরে রাখে। মৌসুমের শুরুতে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির বিপক্ষে পরাজয়ের পর দলটি ধারাবাহিকভাবে ফলাফল উন্নত করেছে। আট ম্যাচ শেষে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় পনেরো পয়েন্ট, যা তাদের লিগের দ্বিতীয় স্থানে রাখে।
ম্যাচের শুরু থেকেই ইন্টার মায়ামি আক্রমণাত্মক খেলায় এগিয়ে যায়। ত্রয়োদশ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন মেসি। পেনাল্টিটি আদায় করেন ইয়ানিক ব্রাইট, যাকে জোশ অ্যাতেনসিও ফাউল করেন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে মাতেও সিলভেত্তির ক্রস থেকে বার্তেরামের হেডে দল ব্যবধান দ্বিগুণ করে দুই শূন্যতে পৌঁছে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে কলোরাডো র্যাপিডস ম্যাচে ফিরে আসে। আটান্নতম মিনিটে রাফায়েল নাভারো একটি গোল করে ব্যবধান কমান। এটি ছিল তার মৌসুমের ষষ্ঠ গোল। এরপর বাষট্টিতম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় ড্যারেন ইয়াপি দ্রুত আক্রমণ থেকে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান।
সমতা ফেরার পর ম্যাচে উভয় দলই আক্রমণ ও প্রতিআক্রমণে ব্যস্ত থাকে। উনসত্তরতম মিনিটে মেসি আবারও দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোল করেন। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তিনি ডান পাশ দিয়ে অগ্রসর হন এবং দুই প্রতিরক্ষকের মাঝ দিয়ে বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান। এই গোলই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দেয়।
শেষ দিকে, সাতাশি মিনিটে ইয়ানিক ব্রাইট লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন, ফলে ইন্টার মায়ামি বাকি সময় একজন কম নিয়ে খেলতে বাধ্য হয়। তবে রক্ষণভাগ দৃঢ় রেখে তারা লিড ধরে রাখতে সক্ষম হয়।
অন্যদিকে, কলোরাডো র্যাপিডস টানা দুই জয়ের পর এই ম্যাচে পরাজিত হয়। তাদের আক্রমণভাগ দ্বিতীয়ার্ধে দুই গোল করলেও শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করতে পারেনি।
চলতি মৌসুমে মেসির গোল সংখ্যা দাঁড়ায় সাতে। তিনি লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় স্যাম সুরিজ ও পিটার মুসার সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে অবস্থান করছেন।
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে দেওয়া হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রতিপক্ষ | কলোরাডো র্যাপিডস |
| ফলাফল | ইন্টার মায়ামি ৩ – ২ কলোরাডো র্যাপিডস |
| মেসির গোল | ২ |
| মোট ম্যাচ | ৮ |
| পয়েন্ট | ১৫ |
| অবস্থান | দ্বিতীয় |
| লাল কার্ড | ইয়ানিক ব্রাইট |
| মৌসুমে মেসির গোল | ৭ |
এই জয়ের মাধ্যমে ইন্টার মায়ামি লিগে তাদের শক্ত অবস্থান আরও দৃঢ় করেছে এবং শীর্ষস্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিজেদের ধরে রেখেছে।
