বার্সেলোনার জার্সিতে মৌসুমের শুরুটা দুর্দান্ত হয়েছে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়ার। লা লিগায় ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে বড় জয়ের ম্যাচে গোল করে তিনি শুধু দলের জয়ে অবদান রাখেননি, গড়েছেন ব্যক্তিগত একটি উল্লেখযোগ্য কীর্তিও। প্রথম চার ম্যাচে ছয় গোল করে তিনি পেছনে ফেলেছেন পর্তুগালের তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে এবং জায়গা করে নিয়েছেন বার্সেলোনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসির পাশে।
শনিবার ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ৫০তম মিনিটে ফার্মিন লোপেজের বাড়ানো ক্রস থেকে গোল করেন রাফিনিয়া। নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠিয়ে নিজের গোলসংখ্যা ছয়ে নিয়ে যান এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। চলতি মৌসুমে লা লিগায় বার্সেলোনার আক্রমণভাগে তাঁর কার্যকারিতার এটি আরেকটি বড় প্রমাণ।
প্রথম চার ম্যাচেই ছয় গোল—এই পরিসংখ্যানই রাফিনিয়ার কীর্তির গুরুত্ব তুলে ধরছে। একই সংখ্যক ম্যাচ শেষে পাঁচ গোল করে থেমেছিলেন রোনালদো। তিনটি ভিন্ন ক্লাবের হয়ে মৌসুমের প্রথম চার ম্যাচে পাঁচটি করে গোল করার রেকর্ড ছিল তাঁর। রাফিনিয়ার ছয় গোল সেই সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে।
তবে রাফিনিয়ার সামনে এখন তুলনা শুধু রোনালদোর সঙ্গে নয়। তাঁর এই শুরু তাঁকে নিয়ে এসেছে মেসির কাছাকাছি। বার্সেলোনার হয়ে দুটি ভিন্ন মৌসুমে প্রথম চার ম্যাচে ছয়টি করে গোল করেছিলেন মেসি। ২০১২-১৩ এবং ২০১৩-১৪ মৌসুমে তিনি এই কীর্তি গড়েন। ফলে বার্সেলোনার হয়ে মৌসুমের প্রথম চার ম্যাচে ছয় গোল করার তালিকায় এখন মেসির সঙ্গে রাফিনিয়ার নামও উচ্চারিত হচ্ছে।
রাফিনিয়ার বর্তমান ফর্ম বার্সেলোনার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। একটি দীর্ঘ মৌসুমে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে ধারাবাহিক গোল পাওয়া দলের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করার সামর্থ্য থাকলে একজন ফরোয়ার্ডের মূল্য আরও বেড়ে যায়। ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে তাঁর গোলটিও এসেছে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই, যখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছিল।
এখন রাফিনিয়ার সামনে আরও একটি মাইলফলক। বার্সেলোনার হয়ে টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করার কীর্তি এর আগে করেছেন দুই ফুটবলার। ১৯৫০-৫১ মৌসুমে সিজার রদ্রিগেজ টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করেছিলেন, যেখানে তাঁর মোট গোল ছিল আটটি। পরে ২০০৯-১০ মৌসুমে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচও টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করার কীর্তি গড়েন; ওই পাঁচ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ছিল পাঁচ।
ফলে পরবর্তী ম্যাচটি রাফিনিয়ার জন্য শুধু আরেকটি লা লিগা ম্যাচ নয়, ব্যক্তিগত রেকর্ডের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। চলতি মৌসুমের প্রথম চার ম্যাচে ছয় গোল করার পর টানা পঞ্চম ম্যাচে জাল খুঁজে পেলে তিনি বার্সেলোনার বিশেষ একটি রেকর্ডের তালিকায় নিজের নাম যোগ করতে পারবেন।
রাফিনিয়ার জন্য এই শুরু আরও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ বার্সেলোনার মতো ক্লাবে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা সবসময়ই বেশি। একটি মৌসুমের শুরুতে গোলের ধারায় থাকা একজন ফরোয়ার্ড দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিপক্ষের জন্যও বাড়তি চাপ তৈরি করেন। এখন দেখার বিষয়, রাফিনিয়া তাঁর দুর্দান্ত সূচনা কতটা দীর্ঘ করতে পারেন এবং পরবর্তী ম্যাচে মেসি ও বার্সেলোনার দুই সাবেক তারকার সেই রেকর্ড স্পর্শ করতে পারেন কি না।










