সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় চলন্ত অটোরিকশার গতিরোধ করে দুই বোনকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় বাধা দিতে গেলে ওই নারীদের এক স্বজনকে লাঠি দিয়ে পেটানোসহ এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করা হয়েছে। ঘটনার পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী এক কলেজছাত্রী। মামলার পর পুলিশ দুজনকে আটক ও গ্রেপ্তার করেছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ধর্মপাশা উপজেলার আলতাফপুর গ্রামের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে বলে মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে জানা গেছে। ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীর বয়স ২২ বছর এবং তাঁর বড় বোনের বয়স ২৪ বছর। আহত স্বজনের বয়স ২৮ বছর।
স্থানীয় সূত্র ও মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ওই কলেজছাত্রী তাঁর বড় বোন ও ভগ্নিপতিকে সঙ্গে নিয়ে বিকেলে অটোরিকশায় করে পাশের মধ্যনগর উপজেলার শহীদ আয়াতুল্লাহ সেতু এলাকায় ঘুরতে যান। সেখানে কিশোর ও তরুণ বয়সী তিন যুবক দুই নারীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কলেজছাত্রীর ভগ্নিপতি প্রতিবাদ করলে তাঁদের সঙ্গে ওই যুবকদের কথা-কাটাকাটি ও বিরোধ হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরে ওই তিন যুবক আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ধর্মপাশার আলতাফপুর গ্রামের সামনের সড়কে অবস্থান নেন। সন্ধ্যার দিকে দুই বোন ও তাঁদের স্বজন অটোরিকশায় করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হলে ওই সড়কে তাঁদের পথ আটকে দেওয়া হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, অটোরিকশা থামানোর পর অভিযুক্তরা দুই নারীর হাত ও পরনের পোশাক ধরে টানাহেঁচড়া শুরু করেন। এ সময় তাঁরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং সঙ্গে থাকা ভগ্নিপতি প্রতিবাদ করেন। তখন অভিযুক্তদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন স্বজনও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে ২৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে কয়েকজন মিলে কিল-ঘুষি, চড় ও লাথি মারেন এবং লাঠি দিয়ে পেটান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তিনি আহত হন। দুই নারীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান। পরে আহত ব্যক্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
ঘটনার পর সোমবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ওই কলেজছাত্রী বাদী হয়ে ধর্মপাশা থানায় মামলা করেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও সাত থেকে আটজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান শুরু করে। রাত তিনটার দিকে আলতাফপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মাহবুব (৪৮) নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময় উপজেলার বেরিকান্দি গ্রামের একটি বাড়ি থেকে ১৭ বছর বয়সী আরেকজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ধর্মপাশা থানার উপপরিদর্শক শরীফুল ইসলাম জানান, ঘটনার বিষয়ে থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া মাহবুবকে মঙ্গলবার সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর আটক ১৭ বছর বয়সী কিশোরকে সুনামগঞ্জ শিশু আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্যও আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগের প্রতিটি দিক যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মামলায় যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে গণ্য করা যায় না। অভিযোগের সত্যতা এবং প্রত্যেক আসামির দায় শেষ পর্যন্ত আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।









