নোয়াখালী সদর উপজেলায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের স্থানীয় কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সহিংসতায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী রক্তাক্ত হয়েছেন। ৩ ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘাতের কারণে ব্যস্ততম আঞ্চলিক সড়কে যানবাহন চলাচল থমকে যায়।
শনিবার বিকেল আনুমানিক ৪টা থেকে সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে। এরপর রাত ৭টা পর্যন্ত অশ্বদিয়া ইউনিয়নের দিদিমণি বাজার থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন প্রাঙ্গণ পর্যন্ত পুরো এলাকায় থেমে থেমে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে অশ্বদিয়া ইউনিয়নের প্রধান সড়ক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাবে সোনাপুর-বসুরহাট সড়কে টানা প্রায় এক ঘণ্টা সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। হঠাৎ এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে পথচারী, যাত্রী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই নিরাপত্তার স্বার্থে দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যান।
স্থানীয় বাসিন্দারা ও দলীয় একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, অশ্বদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের নতুন কমিটি পুনর্গঠন ও ঘোষণা করার পর থেকেই এই অসন্তোষের জন্ম। কমিটিতে কাঙ্ক্ষিত পদ না পাওয়া ও বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে একাংশের পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা গত কয়েক দিন ধরে তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন। বিপরীতে নবগঠিত কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত ও সমর্থকেরা এলাকায় নিজেদের অবস্থান শক্ত রাখার চেষ্টা চালান। পদবঞ্চিত ও পদ পাওয়া—এই দুই শিবিরের মধ্যে পদ-পদবি নিয়ে বাড়তে থাকা বিরোধের জেরে পুরো এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরেই গভীর চাপা উত্তেজনা কাজ করছিল।
ঘটনার দিন বিকেলে দিদিমণি বাজারে দুই পক্ষের অনুসারীরা মুখোমুখি হলে প্রথমে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। কথা-কাটাকাটি খুব দ্রুত হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়। এরপরই উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হয়। বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে রাস্তায় ফেলে পেটানো এবং ইটপাটকেল ছোঁড়ার দৃশ্য দেখা যায়। সংঘর্ষের পর আহত অবস্থায় অন্তত ১০ জনকে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত গুরুতর হওয়ায় স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ছাড়া বাকি আহতদের আশপাশের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করানো হয়েছে।
পুরো ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে নোয়াখালী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লিয়াকত আকবর জানান, সংঘর্ষ ও সড়ক অবরোধের খবর পাওয়ামাত্রই পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় এবং সোনাপুর-বসুরহাট সড়কে যানবাহন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা হয়। অশ্বদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ও সংলগ্ন এলাকায় যাতে নতুন করে কোনো হিংসাত্মক পরিস্থিতি না ঘটে, সে জন্য পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সংবেদনশীল পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।









