জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

পেনাল্টি শুট-আউটে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে হকি বিশ্বের নতুন রানি আর্জেন্টিনা

বিশ্ব হকির আঙিনায় নিজেদের রাজত্ব আবারও নতুন করে প্রতিষ্ঠা করল লাতিন আমেরিকার পরাশক্তি আর্জেন্টিনা। শনিবার নেদারল্যান্ডসের আমস্টেলভিনের বিখ্যাত ওয়াগেনার হকি স্টেডিয়ামে আয়োজিত ফাইনালে গ্যালারি ভর্তি ওলন্দাজ সমর্থকদের হতাশায় ভাসিয়ে স্বাগতিকদের হারিয়ে নারী হকি বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে দলটি। নির্ধারিত ষাট মিনিটের থ্রিলার ম্যাচ ১-১ গোলে সমতায় শেষ হওয়ার পর ভাগ্য নির্ধারণী পেনাল্টি শুট-আউটে ৩-১ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় আর্জেন্টাইন নারীরা। এই ট্রফি জয়ের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনা নারী দল তাদের ইতিহাসে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনন্য গৌরব অর্জন করল।

শুরু থেকেই ওয়াগেনার স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ছিল হাজার হাজার স্বাগতিক দর্শকের চিৎকার। চেনা মাঠ ও ঘরের দর্শকদের জোরালো সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে প্রথমার্ধে বল দখলের লড়াইয়ে কিছুটা এগিয়ে ছিল নেদারল্যান্ডস। ডাচ ফরোয়ার্ডরা বেশ কয়েকটি ঝটিকা আক্রমণ চালিয়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে পরাস্ত করার চেষ্টা করে। তবে আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডাররা সব আক্রমণ প্রতিহত করে নিখুঁতভাবে গোলমুখ সামলে রাখেন। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ম্যাচের গতিপ্রকৃতির সম্পূর্ণ বিপরীতে গিয়ে মাঝমাঠ থেকে এক চতুর কাউন্টার-অ্যাটাক সাজায় আর্জেন্টিনা। আক্রমণভাগের দারুণ বোঝাপড়ায় চমৎকার এক ফিল্ড গোল আদায় করে ম্যাচ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় লাতিন আমেরিকার দলটি।

প্রথম গোল হজম করে খানিকটা বিপাকে পড়লেও চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ডাচরা দমে যায়নি। গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে অলআউট হকি খেলা শুরু করে তারা। ডাচদের ক্রমাগত আক্রমণের ফলও মেলে খুব দ্রুত। চমৎকার এক পেনাল্টি কর্নার থেকে নেওয়া জোরালো শটে আর্জেন্টিনার জাল কাঁপিয়ে ম্যাচ ১-১ সমতায় ফিরিয়ে আনে স্বাগতিকরা। এতে গ্যালারিতে উল্লাসের জোয়ার বয়ে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধের শেষ ১৫ মিনিটে ট্রফির লড়াই পৌঁছে যায় চূড়ান্ত উত্তেজনায়। জয়সূচক শেষ গোলটির উদ্দেশ্যে দুই দলের খেলোয়াড়েরা একের পর এক ক্ষিপ্র আক্রমণ চালাতে থাকেন। তবে আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডস—উভয় পক্ষের গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডারদের অদম্য প্রতিরোধে আর কোনো গোল হয়নি। ৬০ মিনিটের সময়সীমা শেষ হলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের দায়িত্ব পড়ে রোমাঞ্চকর পেনাল্টি শুট-আউটের ওপর।

হকির আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসারে পেনাল্টি শুট-আউটে প্রতিটি দলের খেলোয়াড় মাঝমাঠ থেকে বল ড্রিবলিং করে এনে মাত্র ৮ সেকেন্ডের মধ্যে গোলরক্ষককে পরাস্ত করার সুযোগ পান। প্রচণ্ড স্নায়ুচাপের এই পর্বে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে যান। ‘লাস লিওনাস’ বা ‘সিংহী’ নামে খ্যাত আর্জেন্টিনা দলের এই শেষ প্রহরী ডাচদের একের পর এক চেষ্টা রুখে দেন। চারবার সুযোগ পেয়েও ওলন্দাজরা জালে বল পাঠাতে পেরেছে মাত্র একবার।

অন্যদিকে আর্জেন্টাইন শুটাররা ছিলেন দারুণ মনোযোগী। তারা ঠাণ্ডা মাথায় বল ড্রিবলিং করে ডাচ গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে টানা তিনটি বল জালে জড়ান। শুট-আউটে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথেই উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো আর্জেন্টিনা শিবির। এই ঐতিহাসিক ট্রফি জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা কেবল তাদের তৃতীয় বিশ্বকাপই নিশ্চিত করেনি, বরং ২০২২ সালের হকি বিশ্বকাপের ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের কাছে হারের যে বেদনাময় অভিজ্ঞতা ছিল, তারও এ

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর