জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

খুলনায় স্লুইসগেটের পানি থেকে অজ্ঞাতপরিচয় বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার

খুলনার পাইকগাছায় নদীর জোয়ার-ভাটা ও পানি চলাচলের একটি স্লুইসগেটের কাছ থেকে আনুমানিক সত্তর বছর বয়সী এক অজ্ঞাতপরিচয় বৃদ্ধের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে উপজেলার দারুণ মল্লিক গ্রাম সংলগ্ন এলাকা থেকে এই মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। হঠাৎ করে এমন একটি মৃতদেহ পানিতে ভেসে আসার ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ প্রশাসনের সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর নাগাদ ৪ নম্বর দেলুটি ইউনিয়নের দারুণ মল্লিক গ্রামের ২২ নম্বর পোল্ডারের পানি নিষ্কাশন ও নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরি স্লুইসগেট সংলগ্ন এলাকায় একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে কৌতূহলী ও আতঙ্কিত মানুষের ভিড় জমে যায়। স্থানীয়রা অনেক চেষ্টা করেও মরদেহটি চিনতে পারেননি। পরবর্তীতে কোনো উপায় না পেয়ে তারা দ্রুত পাইকগাছা থানা পুলিশকে পুরো বিষয়টি অবহিত করেন।
খবর পাওয়ার পরপরই থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। স্থানীয় লোকজনের সক্রিয় সহায়তায় পুলিশ পানি থেকে ওই বৃদ্ধের নিথর দেহটি উদ্ধার করে ডাঙায় নিয়ে আসে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত শত শত মানুষ মরদেহটি শনাক্ত করার চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত কেউ তার নাম-পরিচয় বা ঠিকানা নিশ্চিত করতে পারেননি। ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কোনো স্থান থেকে স্রোতের টানে মরদেহটি এখানে এসে স্লুইসগেটের মুখে আটকে গেছে।
ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আওয়াল কবির জানান, স্লুইসগেটের পানি থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা প্রায় ৭০ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধের মরদেহটি বর্তমানে থানা হেফাজতে নিরাপদে রাখা হয়েছে। পুলিশি নিয়ম অনুযায়ী মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এরপর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং আইনগত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য মরদেহটি ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ওই ব্যক্তির আসল পরিচয় শনাক্ত করার জন্য অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমেই তার পরিচয় দ্রুত পরিষ্কার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর ওই বৃদ্ধের মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর