জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

হাতিয়ায় শিশু ধর্ষণের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সাবেক শিক্ষক হেলাল আটক

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার হরণী ইউনিয়নে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে মো. হেলাল উদ্দিন (৪২) নামে এক সাবেক শিক্ষক ও ফার্মেসি ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। বর্বর এই নির্যাতনের একটি দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ ও এলাকা সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে উপজেলার হরণী ইউনিয়নের আদর্শ গ্রাম বাজারে মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন ওরফে হেলাল মাস্টার ওই গ্রামের বেলায়েত খলিফার ছেলে। তিনি পূর্বে স্থানীয় আদর্শ গ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। তবে বছর দুয়েক আগে শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়ে তিনি বাজারের মধ্যে একটি ওষুধের দোকান খুলে বসেন।

ঘটনার দিন সকাল ৯টার দিকে ৯ বছর বয়সী ওই শিশুটিকে কৌশলে নিজের ফার্মেসিতে ডেকে নেন হেলাল। দোকানের পেছনের অংশে নিয়ে গিয়ে শিশুটির ওপর নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। সে সময় পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এক পথচারী বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং দোকানের টিনের একটি ভাঙা অংশ দিয়ে ভেতরের পুরো ঘটনাটি নিজের মুঠোফোনে ধারণ করেন। পরবর্তীতে এই ভিডিওটি ইন্টারনেটে প্রকাশিত হলে তা মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই স্থানীয় জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। উৎসুক জনতা হেলালের ফার্মেসিতে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে তিনি কৌশলে পালানোর চেষ্টা চালান। তবে উপস্থিত লোকজন ধাওয়া করে তাকে ধরে ফেলেন এবং গণধোলাই না দিয়ে চেয়ারম্যানঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে সোপর্দ করেন।

এলাকাবাসীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে এই ধরনের অপরাধের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও তিনি একাধিকবার নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। গত ৪ আগস্ট একই এলাকায় অন্য এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে গ্রাম্য শালিস বসেছিল। সেই বিচারে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৫০টি বেত্রাঘাত করে ছেড়ে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, সে সময় যদি তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তবে আজ এই নিষ্পাপ শিশুটিকে এমন নির্যাতনের শিকার হতে হতো না।

অভিযুক্ত হেলালের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও এলাকায় বেশ চর্চা হচ্ছে। স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য অনুযায়ী, হেলাল একসময় যুবলীগের স্থানীয় কমিটির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তবে আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিজের অপরাধ ঢাকতে ও আইনি ঝামেলা এড়াতে তিনি জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে শুরু করেন।

তবে এই সম্পৃক্ততার দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন হরণী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ তারিফুল মাওলা। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, হেলাল জামায়াতের কোনো সাংগঠনিক কর্মী বা সদস্য নন। তিনি যুবলীগের রাজনীতির সাথেই যুক্ত ছিলেন এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজেকে বাঁচাতে কোনো এক মিছিলে ভিড়ে গিয়েছিলেন। জামায়াতের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

চেয়ারম্যানঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) সালাউদ্দিন রাসেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়। ভুক্তভোগী পরিবার মামলা করার জন্য থানায় অবস্থান করছে।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। শিশুটির মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করছেন। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অভিযুক্তকে গ্রেফতার দেখানো হবে। এছাড়া ভুক্তভোগী শিশুটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার জন্য তাকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর