ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সহ-সভাপতি এহসান উল্লাহ পিয়ালকে নরসিংদীর বেলাবো উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি সুনির্দিষ্ট মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। রবিবার সকালে বেলাবো বাজারের সোনালী ব্যাংক সংলগ্ন ব্যস্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই গ্রেপ্তারের ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত এহসান উল্লাহ পিয়ালের বয়স প্রায় বত্রিশ বছর। তিনি নরসিংদী জেলার বেলাবো উপজেলার সল্লাবাদ ইউনিয়নের নিলক্ষীয়া নামাপাড়া গ্রামের সন্তান। তার বাবা মৃত জহিরুল হক এবং মা মোসা. খাদিজা বেগম। স্থানীয় সূত্র এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ লাভ করেন। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে নজরদারিতে রেখেছিল।
পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বেলাবো থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ওই মামলার নম্বর ছিল ১৬। ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের (২০১৩ সালে সংশোধিত) ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছিল। মূলত ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবেই তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি চলাফেরা করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বেলাবো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আমানউল্লাহ সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও মামলার ভিত্তিতেই পিয়ালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সমস্ত আইনি আনুষ্ঠানিকতা ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর নির্ধারিত সময়ে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে। পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
গত কয়েক বছর ধরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নানা ধরনের পালাবদল ঘটেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন সহিংস ঘটনা এবং নাশকতার অভিযোগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিংবা প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ও নজরদারির কারণে পলাতক বা অভিযুক্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিরা একে একে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়ছেন। এহসান উল্লাহ পিয়ালের গ্রেপ্তারও সেই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ারই একটি অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সচেতন মহল এবং সাধারণ মানুষের মাঝে এই গ্রেপ্তারের পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এমন পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। অন্যদিকে মামলার অন্যান্য আসামিদের ধরতে এবং পুরো ঘটনার নেপথ্যে থাকা অন্যান্য ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আদালত প্রাঙ্গণে তাকে হাজির করার পর পরবর্তী আইনি লড়াই ও রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে।









