মাঠ পর্যায় থেকে পর্যায়ক্রমে সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সিলেটে পাথর উত্তোলন বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ সভা শেষে বৃহস্পতিবার (৭ মে, ২০২৬) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে মিলিত হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। উক্ত ব্রিফিংয়ে তিনি দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত সশস্ত্র বাহিনীর (সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী) সদস্যদের পর্যায়ক্রমে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান।

সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহারের প্রেক্ষাপট

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে দেশে একটি নির্বাচিত ও রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব পালন করছে। বিগত সময়গুলোতে বিশেষ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীকে মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তাদের কার্যক্রম আগের চেয়ে অনেক বেশি গতিশীল ও কার্যকর হয়েছে।

মন্ত্রীর ভাষ্যমতে, পুলিশ বাহিনী যখন তাদের পূর্ণ পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হচ্ছে, তখন মাঠ পর্যায়ে দীর্ঘ মেয়াদে সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পেয়েছে। সরকার মনে করছে, দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার মূল দায়িত্ব বেসামরিক বাহিনীর ওপর অর্পণ করে সশস্ত্র বাহিনীকে পর্যায়ক্রমে তাদের নিয়মিত কার্যক্রমে ফিরিয়ে নেওয়া সমীচীন। তবে এই প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াটি কোনো হুট করে নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়, বরং যথাযথ আলোচনার মাধ্যমে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

সিলেট অঞ্চলে পাথর উত্তোলন ও পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ কমিটি

ব্রিফিংয়ের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলের পাথর কোয়ারিগুলো থেকে পাথর উত্তোলন সংক্রান্ত জটিলতা। পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং জাতীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে।

সিলেট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিতে সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটির মূল কাজ হবে একটি নির্দিষ্ট নির্দেশিকা প্রণয়ন করা, যার মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতি না করে পাথর উত্তোলন সম্ভব হয়।

কমিটির প্রধান কার্যাবলি ও বিবেচ্য বিষয়সমূহ:

বিষয়বিস্তারিত বিবরণ
সীমানা নির্ধারণকোন নির্দিষ্ট এলাকা বা কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন করা যাবে তা চিহ্নিত করা।
উত্তোলনের গভীরতামাটির কতটুকু গভীর থেকে পাথর সংগ্রহ করা হবে তার কারিগরি সীমা নির্ধারণ।
পরিমাণ নির্ধারণপরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে নির্দিষ্ট সময়ে কী পরিমাণ পাথর উত্তোলনযোগ্য তা ঠিক করা।
পরিবেশ সংরক্ষণপাথর উত্তোলনের ফলে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও নদী ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
তদারকিঅবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও রিপোর্ট প্রদান।

সরকারের বর্তমান অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ও প্রক্রিয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বিশদ আলোচনা করা হবে। এটি একটি কৌশলগত প্রক্রিয়া যাতে হঠাৎ করে কোনো শূন্যতা তৈরি না হয়। একইসঙ্গে পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আধুনিকায়ন ও শক্তিশালী করার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে যাতে তারা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে।

পাথর উত্তোলনের বিষয়ে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর সরকার চূড়ান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করবে। এর ফলে একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে সিলেটের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ভূ-প্রকৃতি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কমিটির সুপারিশ অনুযায়ীই পরবর্তী সকল কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

সচিবালয়ের এই ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এটি প্রতীয়মান হয় যে, সরকার বেসামরিক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বিজ্ঞানসম্মত ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণে সচেষ্ট।