মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে কুমিল্লা জেলা জুড়েই বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে জেলা পুলিশ। জেলার সব কটি থানার বিভিন্ন এলাকায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে মোট ৪৪টি অভিযানে পরিচালনা করে ৯৩ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে অভিযানের এ তথ্য নিশ্চিত করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ইশতিয়াক হাসান আমীন।
পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, গতকাল বৃহস্পতিবার জেলার ১৯টি থানা এলাকায় একযোগে এই অভিযান পরিচালিত হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দল শহর ও গ্রামের চিহ্নিত মাদকের আস্তানাগুলো ঘিরে রেখে এই চিরুনি তল্লাশি চালায়। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ১ হাজার ৫১৭ পিস ইয়াবা, ৭২ কেজি গাঁজা, নগদ অর্থ এবং মাদক সেবনের একাধিক বাদ্যযন্ত্র ও সরঞ্জাম। মাদকের পাইকারি সরবরাহকারী, খুচরা বিক্রেতা ও নিয়মিত সেবনকারীসহ পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনতে এই কৌশল নেওয়া হয়।
গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে জেলা পুলিশ ও প্রশাসন। অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতে এবং অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে বেশ কিছু আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) ও জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেটের সংক্ষিপ্ত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনেককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইশতিয়াক হাসান আমীন জানান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির স্পষ্ট নির্দেশনা এবং কুমিল্লার পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় গত ১৬ আগস্ট থেকে জেলা জুড়ে এই বিশেষ কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। কোনো প্রভাব বা পরিচয় বিবেচনা না করে মাদকের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। মাদকমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত কুমিল্লায় পুলিশের এই জিরো টলারেন্স নীতি ও ঝটিকা অভিযান ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।
অভিযানের ধারাবাহিকতা নিয়ে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইশতিয়াক হাসান আমীন জানান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং কুমিল্লার পুলিশ সুপারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে গত ১৬ আগস্ট থেকে জেলা জুড়ে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালু রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো অবস্থাতেই মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। জেলাকে মাদক মুক্ত করতে পুলিশের এই বিশেষ এবং আকস্মিক তল্লাশি অভিযান আগামী দিনগুলোতেও আরও জোরালোভাবে অব্যাহত থাকবে।








