আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে দলে নিতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জুভেন্টাস। অ্যাস্টন ভিলার সঙ্গে আলোচনায় সমঝোতায় পৌঁছাতে ইতালির ক্লাবটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে। প্রস্তাবটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে অ্যাস্টন ভিলার চাওয়া অর্থের কাছাকাছি পৌঁছানো যায়, আবার জুভেন্টাসকে শুরুতেই পুরো অর্থ পরিশোধ করতে না হয়।
স্পেনের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুভেন্টাসের নতুন প্রস্তাবে ৭০ লাখ ইউরো নিশ্চিত পারিশ্রমিকের পাশাপাশি আরও ৩০ লাখ ইউরো বোনাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অর্থাৎ শর্ত পূরণ হলে মোট প্রস্তাবের মূল্য দাঁড়াতে পারে ১ কোটি ইউরো। অন্যদিকে, মার্তিনেজকে ছাড়ার জন্য অ্যাস্টন ভিলা ১ কোটি ইউরো দাবি করছে।
দুই ক্লাবের মধ্যে গত কয়েক সপ্তাহে আলোচনা কিছুটা এগোলেও চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আর্থিক কাঠামোর পাশাপাশি মার্তিনেজের শারীরিক অবস্থাও আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মার্তিনেজ দীর্ঘদিন ধরে ডান হাতের অনামিকায় চোট নিয়ে খেলছেন। বিশ্বকাপের সময় থেকে থাকা সেই সমস্যার কারণে তিনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে জুভেন্টাসকে শুধু দলবদলের অর্থ নয়, খেলোয়াড়টির বর্তমান শারীরিক সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।
বয়সও জুভেন্টাসের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ৩৩ বছর বয়সী মার্তিনেজ আন্তর্জাতিক ও ক্লাব ফুটবলে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার অধিকারী এবং বড় ম্যাচে তার পারফরম্যান্সের কারণে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে জুভেন্টাসের ব্যবস্থাপনা একটি তুলনামূলক বেশি বয়সী গোলরক্ষকের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করার বিষয়ে সতর্ক।
ক্লাবটির আর্থিক অবস্থাও সেই সতর্কতার পেছনে ভূমিকা রাখছে। সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোতে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক নানা জটিলতার কারণে দলবদলের বাজারে জুভেন্টাসকে আগের তুলনায় বেশি হিসাব করে এগোতে হচ্ছে। সে কারণেই অ্যাস্টন ভিলার চাওয়া ১ কোটি ইউরো একবারে পরিশোধের পরিবর্তে নিশ্চিত অর্থ ও বোনাস মিলিয়ে চুক্তির কাঠামো তৈরি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জুভেন্টাসের পরিকল্পনায় মার্তিনেজের গুরুত্ব অবশ্য স্পষ্ট। ক্লাবটি তার অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব এবং বড় ম্যাচে চাপ সামলানোর সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক হিসেবে তার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাও দলটির জন্য বাড়তি আকর্ষণ।
অন্যদিকে, মার্তিনেজকে বিক্রি করতে হলে অ্যাস্টন ভিলাকেও দ্রুত বিকল্প খুঁজে নিতে হবে। কোচ উনাই এমেরি ইতোমধ্যে গোলরক্ষক পজিশনে সম্ভাব্য নতুন মুখের সন্ধান শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। সেই তালিকায় জাপানের গোলরক্ষক জিওন সুজুকি অন্যতম পছন্দ হিসেবে উঠে এসেছে।
সুজুকিকে নিয়ে আগ্রহের পেছনে আরেকটি কারণও রয়েছে। পিএসজির সঙ্গে তার দলবদল নিয়ে আলোচনা থমকে যাওয়ায় অ্যাস্টন ভিলার জন্য তাকে পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। চুক্তিটি সম্পন্ন হলে আগামী মৌসুমে ভিলার গোলপোস্টে সুজুকিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা থাকতে পারে।
ফলে মার্তিনেজের সম্ভাব্য দলবদল এখন শুধু জুভেন্টাস ও অ্যাস্টন ভিলার আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। একদিকে জুভেন্টাস অর্থনৈতিকভাবে নিজেদের অবস্থান সামলে চুক্তি সম্পন্ন করতে চাইছে, অন্যদিকে মার্তিনেজ চলে গেলে তার জায়গা পূরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইংলিশ ক্লাবটি।
প্রিমিয়ার লিগের নতুন মৌসুম শুরু হওয়ার আগে আগামী কয়েক দিন এই দলবদলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। জুভেন্টাস অ্যাস্টন ভিলার সঙ্গে আর্থিক সমঝোতায় পৌঁছাতে পারলে মার্তিনেজের জন্য ইতালিতে নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে। আর চুক্তি ভেস্তে গেলে বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষককে নিয়েই নতুন মৌসুমের পরিকল্পনা সাজাতে হতে পারে অ্যাস্টন ভিলাকে।









