গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এই নৃশংস ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী ঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছেন এবং পুলিশ তাকে গ্রেফতারে জোর তৎপরতা শুরু করেছে। সোমবার ভোররাতে কোনাবাড়ীর পারিজাত এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ওই গৃহবধূর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত তরুণীর নাম রোকেয়া (২৪), যিনি ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল থানার হরিয়াগুনি গ্রামের তারা মিয়ার কন্যা। তিনি কোনাবাড়ীর পারিজাত এলাকায় স্বামী আরিফের (২৭) সঙ্গে একটি ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সাত বছর আগে এই দম্পতি প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন। তবে বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই মনোমালিন্য ও ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকত। ঘটনার সূত্রপাত ধরে রোকেয়ার পরিবার জানায়, দীর্ঘদিনের সেই অশান্তি ও পারিবারিক কলহ শেষ পর্যন্ত চরম রূপ নেয়। পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, রোববার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে যেকোনো একসময়ে ক্ষুব্ধ স্বামী আরিফ তার স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন এবং নিশ্চিত মৃত্যুর পর ঘর বাইরে থেকে আটকে পালিয়ে যান।
রাত গড়িয়ে গেলেও ওই গৃহবধূ ঘর থেকে বাইরে না আসায় আশেপাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়াদের মনে সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করে। দীর্ঘক্ষণ সাড়াশ শব্দ না পেয়ে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনাবাড়ী থানা পুলিশকে পুরো বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং ঘরের ভেতর থেকে গৃহবধূর মরদেহটি উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর পুলিশ নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে দেয়।
কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিক আলামত ও সুরতহাল দেখে এটিকে একটি স্পষ্ট শ্বাসরোধজনিত হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে। নিহতের গলায় আঘাতের স্পষ্ট দাগ রয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী পলাতক থাকায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা সম্ভব হয়নি, তবে তাকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।









