খুলনা রেঞ্জের নতুন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. রেজাউল করিম দায়িত্ব নেওয়ার পর জেলায় অভিযান জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে পরিস্থিতির সামগ্রিক পরিবর্তন মূল্যায়নে অপরাধের পরিসংখ্যান ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা প্রয়োজন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আট দিনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা ১৯টি মামলার অভিযানে ৬৮৮ পিস ইয়াবা, ১ কেজি ৯০৫ গ্রাম গাঁজা এবং ২০ লিটার দেশীয় মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া অস্ত্র আইনে করা একটি মামলায় পিস্তল, ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে পরিচালিত মোটরসাইকেল তল্লাশিতে মোট ১ হাজার ৮৭৫টি মোটরসাইকেল পরীক্ষা করা হয়। এসব তল্লাশির পর ২৬৬টি মামলা দায়ের এবং ১৯৫ জনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
রূপসায় পিস্তল ও গুলিসহ একজন গ্রেপ্তার
বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে গত ৯ অক্টোবর ভোর ৫টার দিকে রূপসা থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ দল উপজেলার রামনগর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় রাজু মোড়ল (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে একটি পিস্তল ও ৭.৬৫ মিলিমিটার ক্যালিবারের দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। তিনি রামনগর এলাকার ইমান আলী মোড়লের ছেলে।
এ ছাড়া রূপসা থানা এলাকায় ‘বি-কোম্পানি’ নামে পরিচিত একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে চিহ্নিত আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মো. মিরাজ গাজী (৩৮), মো. শামিম শেখ (২৭), মো. সাজ্জাদ হোসেন সাগর (২৩), সাইদুল সাইদুর ইসলাম (৪১), সাব্বির হোসেন (২৮), ইয়াছিন আরাফাত ওরফে রাজু (৪৪), মো. কামাল শেখ (৪০), মো. রনি মোল্লা (২৮) এবং সুমন হাওলাদার (৩১)।
পুলিশের দাবি, অপরাধ দমন এবং অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার ঠেকানোর লক্ষ্যেই এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হবে।
হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার বটিয়াঘাটায়
গত ১৩ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৩টার দিকে বটিয়াঘাটা থানা পুলিশের একটি দল হাটবাটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনুপম মহলদার (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তিনি ওই এলাকার নিভান মহলদারের ছেলে। বটিয়াঘাটা থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনুপম মহলদারের বিরুদ্ধে আরও তিনটি হত্যা মামলার তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে খুলনা মহানগরীর খুলনা থানায় ২০১৯ সালের ৮ মার্চ দায়ের করা একটি হত্যা মামলাও রয়েছে। ওই মামলার অভিযোগপত্রে তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ৭ মার্চ খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে হাবিবুর রহমান সবুজ নামের এক যুবকের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। ওই অভিযোগপত্রে অনুপম মহলদারের নামও রয়েছে।
এ ছাড়া খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের খালিশপুর থানায় ২০১৩ সালে দায়ের করা একটি হত্যা মামলার অভিযোগপত্রেও তাঁর নাম রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। খুলনা জেলার ফুলতলা থানায় ২০১৪ সালে দায়ের করা আরেকটি হত্যা মামলার অভিযোগপত্রেও তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুসারে, বটিয়াঘাটা থানায় ২০০৯ সালে দায়ের করা একটি চুরির মামলায় অনুপম মহলদারের তিন বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা হয়েছিল। নতুন করে গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা পুলিশের
খুলনায় বিশেষ অভিযানের মূল লক্ষ্য হিসেবে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ, অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
আট দিনে ২৫৫ জনকে গ্রেপ্তার, মাদক উদ্ধার এবং মোটরসাইকেল তল্লাশিতে একাধিক মামলা পুলিশের অভিযানের পরিধি তুলে ধরছে। তবে এসব কার্যক্রমের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নির্ভর করবে অপরাধ প্রতিরোধ, তদন্তের কার্যকারিতা এবং আইনানুগ বিচারপ্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতার ওপর। জননিরাপত্তা জোরদার করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে খুলনা পুলিশ।









