প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে ২০৩০ সালের আসরটি স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোতে যৌথভাবে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়েতে বিশেষ উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক যাত্রাকে স্মরণ করার পাশাপাশি দক্ষিণ আমেরিকায় ফুটবলের ঐতিহ্যকেও গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নেটফ্লিক্স টুর্নামেন্টের ১০৪টি ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করবে। দক্ষিণ আমেরিকার তিন দেশে অনুষ্ঠিত বিশেষ ম্যাচগুলোও দর্শকেরা সরাসরি দেখতে পারবেন। তবে সম্প্রচারের অধিকার, অঞ্চলভিত্তিক প্রাপ্যতা এবং চুক্তির অন্যান্য শর্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
ম্যাচের পাশাপাশি থাকবে বিশেষ অনুষ্ঠান
প্রস্তাবিত সম্প্রচার পরিকল্পনায় শুধু মাঠের খেলাই নয়, ম্যাচের আগে ও পরে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সরাসরি বিশ্লেষণ, প্রতিদিনের হাইলাইটস এবং স্থানীয় দর্শকদের উপযোগী কনটেন্ট রাখার কথা বলা হয়েছে। এমন আয়োজন বাস্তবায়িত হলে দর্শকেরা ম্যাচের পাশাপাশি দলগুলোর প্রস্তুতি, খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের বিশ্লেষণও উপভোগ করতে পারবেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রতিদিন একটি করে ম্যাচ বিনা মূল্যে দেখার সুযোগ রাখা হবে। স্পেনের একটি অবাধ সম্প্রচারযোগ্য টেলিভিশন চ্যানেলে দুটি সেমিফাইনাল, ফাইনাল এবং স্পেন জাতীয় দলের সব ম্যাচ দেখানোর ব্যবস্থাও থাকবে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে কোন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এই দায়িত্ব পাবে এবং বিনা মূল্যের সম্প্রচার কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
ডিজিটাল সম্প্রচারে নতুন সম্ভাবনা
নেটফ্লিক্সের চিফ কনটেন্ট অফিসার বেলা বাজারিয়ার নামে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ মানুষের মধ্যে ঐক্য ও আবেগ তৈরির অসাধারণ ক্ষমতা রাখে। স্পেনের শিরোপা জয়ের মুহূর্তে সমর্থকদের আবেগ, উচ্ছ্বাস ও গর্ব কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতার কথাও তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর মতে, এ ধরনের স্মৃতি ও গল্প একটি দেশের সংস্কৃতির অংশ হয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম টিকে থাকে।
ফিফার সাধারণ সম্পাদক মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোমের বক্তব্য হিসেবেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে। স্পেন ও অ্যান্ডোরার বিপুলসংখ্যক ফুটবলপ্রেমীর কাছে প্রতিযোগিতাটি পৌঁছে দিতে নেটফ্লিক্সের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব বক্তব্য ও চুক্তির বিবরণ আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই সম্প্রচার স্বত্ব, ম্যাচের সংখ্যা এবং বিনা মূল্যে খেলা দেখানোর ব্যবস্থাকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করার আগে ফিফা ও নেটফ্লিক্সের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রয়োজন।









