গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেনে এক নারী যাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী উত্তেজনা ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় জনতা ও যাত্রীদের মধ্যকার এই সংঘর্ষের জেরে ট্রেন লক্ষ্য করে দফায় দফায় পাথর নিক্ষেপ করা হয়। এই আকস্মিক হামলায় ট্রেনের একাধিক জানালার কাচ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে এবং এক যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। ছুটির দিনে ট্রেনযাত্রায় এমন সহিংস ঘটনায় পুরো যানের সাধারণ যাত্রীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও হাহাকার ছড়িয়ে পড়ে।
রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর রেলস্টেশনে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। গোপালগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী কমিউটার ট্রেনটি নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় বগির ভেতরে এক নারী যাত্রীকে উত্ত্যক্ত করাকে কেন্দ্র করে কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডা বাঁধে। ট্রেনটি কাশিয়ানীর মহেশপুর স্টেশনে পৌঁছামাত্রই পূর্বের ওই ঘটনার রেশ ধরে স্টেশনে অপেক্ষমাণ স্থানীয় একদল বিক্ষুব্ধ যুবক ট্রেন ঘেরাও করেন। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং তারা ট্রেনটির ভেতরে প্রবেশ করে কয়েকজন যাত্রীকে টেনেহিঁচড়ে নিচে নামানোর চেষ্টা চালান।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে ট্রেনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রেলকর্মী ও সাধারণ যাত্রীরা দ্রুত ভেতর থেকে ট্রেনের সমস্ত দরজা ও জানালা অবরুদ্ধ করে ফেলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মহেশপুর স্টেশনের ওই জনতা বাইরে থেকে এলোপাতাড়ি পাথর ছুড়তে শুরু করেন। পাথরের আঘাতে ট্রেনের বেশ কয়েকটি জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে চলে আসে, যার ফলে এক যাত্রী আহত হন। পরবর্তীতে ট্রেনটি কোনোমতে ফরিদপুরের নগরকান্দা স্টেশনে পৌঁছালে সেখানেও পুনরায় হামলার আশঙ্কা দেখা দেয়। যেকোনো ধরনের বড় দুর্ঘটনা এড়াতে স্টেশনে যাত্রাবিরতি সংক্ষিপ্ত করে ট্রেনটি দ্রুত ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। তবে নগরকান্দা স্টেশন এলাকাতেও ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার ঘটনা অব্যাহত থাকে। পরপর দুটি স্টেশনে এমন সহিংসতার কারণে মহেশপুর ও নগরকান্দা স্টেশন থেকে বহু যাত্রী নিরাপত্তার ভয়ে ট্রেনে উঠতে কিংবা নামতে পারেননি।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ট্রেনের কন্ডাক্টর বা পরিচালক বিজয় বিশ্বাস গণমাধ্যমের কাছে নিজের মানসিক বিপর্যয়ের কথা ব্যক্ত করেন। তিনি জানান যে সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত এই পরিস্থিতির কারণে তিনি মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি ঊর্ধ্বতন রেলকর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি প্রশাসনিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। রাজবাড়ী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের জানান যে এ ধরনের কোনো হামলার ঘটনা সম্পর্কে তাঁর নিকট কোনো তথ্য বা অভিযোগ আসেনি। রেলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যাত্রীদের নির্বিঘ্ন চলাচল বজায় রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও কড়া নজরদারির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।









