জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

ডেমরায় পৃথক দুর্ঘটনায় নিহত এক, আহত চার

রাজধানীর ডেমরা এলাকায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। গত রোববার দিবাগত রাতে ডেমরা থানার দুটি পৃথক এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাইফুল ইসলাম (৩৫) পেশায় পাঠাও চালক ছিলেন। তাঁর বাড়ি নরসিংদী এলাকায়।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ডেমরা থানার কাছাকাছি সুফিয়া কামাল ব্রিজের নিচে প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে। এ সময় একটি কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় সাইফুল গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। পরে রাত সোয়া দুইটার দিকে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ডেমরা থানার উপপরিদর্শক মো. সাদ্দাম জানান, দুর্ঘটনার পর কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে এবং এর চালককে আটক করা হয়েছে। নিহত সাইফুলের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিষয়েও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে কাভার্ড ভ্যানটির সঙ্গে সাইফুলের সংঘর্ষ হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনার সময় সড়কের অবস্থা, যানবাহনের গতিবেগ, চালকের সতর্কতা এবং আশপাশের পরিস্থিতিসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় রয়েছে।

একই রাতে ডেমরা থানার মস্তুমাঝি এলাকায় আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটে। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে একটি পুলিশ চেকপোস্টের পাশে বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে একটি কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষ হয়। এতে চারজন আহত হন।

আহত ব্যক্তিরা হলেন রাসেল মিয়া (৩৫), রেজাউল করিম (২৫), মো. শাহজাহান (৩২) এবং ফরহাদ (৪২)। দুর্ঘটনার পর তাঁদের উদ্ধার করে রাত তিনটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক জানিয়েছেন, আহত চারজন জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

একই রাতে একই থানার আওতাধীন এলাকায় পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে রাতে ভারী যানবাহন চলাচল এবং ছোট যানবাহন ও মোটরসাইকেল চালকদের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। কাভার্ড ভ্যান, ট্রাক ও অন্যান্য ভারী যানবাহনের সঙ্গে মোটরসাইকেল বা ছোট যানবাহনের সংঘর্ষ হলে আঘাত গুরুতর হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে।

বিশেষ করে রাতে সড়কে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়া, যানবাহনের গতি, চালকের ক্লান্তি বা অসতর্কতা এবং সড়কে বিভিন্ন ধরনের যান একসঙ্গে চলাচল দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে ডেমরার দুটি দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে এসব কোনো কারণই নিশ্চিতভাবে দায়ী কি না, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না।

পুলিশ জানিয়েছে, দুটি ঘটনাকেই পৃথকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট যানবাহন, চালক এবং দুর্ঘটনার পরিস্থিতি যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এক রাতের ব্যবধানে নয়, একই রাতে কাছাকাছি এলাকায় দুটি দুর্ঘটনা ঘটায় স্থানীয়দের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হলেও গুরুতর আঘাতের ক্ষেত্রে চিকিৎসা শুরুর আগের সময়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে চালকদের সতর্কতা, নিয়ন্ত্রিত গতি এবং সড়কে সব ধরনের যানবাহনের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর