সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ-সলঙ্গার আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা আয়নুল হকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে সিরাজগঞ্জের ধানগড়া এলাকায় দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এই ঘটনায় তিনি শারীরিকভাবে অক্ষত থাকলেও তাঁর ব্যবহৃত ব্যক্তিগত গাড়িটির বেশ ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে ধানগড়া এলাকায় সংসদ সদস্যের অবস্থানকালীন আচমকা একদল দুর্বৃত্ত তাঁকে উদ্দেশ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়তে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি দ্রুত গাড়িতে উঠে স্থান ত্যাগ করার চেষ্টা করেন। এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার সময়ও তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ক্রমাগত পাথর মারা হতে থাকে, যার ফলে গাড়িটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে ও দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
হামলার পরপরই এক ভিডিওবার্তায় নিজের ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন সংসদ সদস্য আয়নুল হক। তিনি সরাসরি অভিযোগ এনে বলেন, ‘আমার ওপর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। আমি একজন সরকারদলীয় এমপি হয়েও আজ সুরক্ষিত নই। সাধারণ মানুষের জানমালেরও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এনসিপি ও শিবিরের লোকজন সরাসরি আমার ওপর এই হামলা চালিয়েছে। আমি অবিলম্বে এই চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।’
এই অপ্রীতিকর ঘটনার পর থেকেই সিরাজগঞ্জের রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুততম সময়ে শাস্তির আওতায় আনার দাবিতে স্থানীয় বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
সামগ্রিক পরিস্থিতির বিষয়ে কথা বললে রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনার সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের তীব্রতা দেখা দিলে খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয় এবং দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার সাধারণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও থমথমে রাখতে বিশেষ তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর এখনো কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ কিংবা আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজধানীর সাথে উত্তরাঞ্চলের সার্বিক যোগাযোগব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সমীকরণে সিরাজগঞ্জ-৩ আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন সরকারি দলের দায়িত্বশীল প্রতিনিধির ওপর দিনদুপুরে এমন হামলার ঘটনা স্থানীয় নিরাপত্তার স্বাভাবিক চিত্র নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে শঙ্কা তৈরি করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ধানগড়া ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।









