বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) মধ্যে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুই বোর্ডের মধ্যে ইতিবাচক যোগাযোগের যে আভাস মিলেছিল, তার ধারাবাহিকতায় এবার এশিয়ান ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পারস্পরিক সমর্থনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৮-৩১ চক্রের ফিউচার ট্যুরস প্রোগ্রাম (এফটিপি) আরও ভারসাম্যপূর্ণ করার প্রশ্নেও দুই বোর্ডের মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে পিসিবির ঘনিষ্ঠ একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি দুই দিনের ঢাকা সফর শেষে ইতিবাচক বার্তা নিয়ে দেশে ফিরেছেন। সফরকালে তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন ক্রিকেট প্রধান তামিম ইকবালও উপস্থিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকের আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি ছিল ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে (ডব্লিউটিসি) সম্ভাব্য দুই-স্তরের কাঠামো চালুর যেকোনো উদ্যোগ প্রতিহত করা। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতে, এমন কোনো কাঠামো বাস্তবায়িত হলে অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী বা কম আর্থিক সক্ষমতার বোর্ডগুলোর জন্য প্রতিযোগিতামূলক সুযোগ আরও সীমিত হয়ে যেতে পারে। এ কারণে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এ বিষয়ে একমত হয়েছে যে, আইসিসির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যৌথভাবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা প্রয়োজন।
বৈঠকে ২০২৭ সালের পর শুরু হতে যাওয়া নতুন আর্থিক চক্রে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ইভেন্ট থেকে প্রাপ্ত আয়ের বণ্টন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই বোর্ড মনে করছে, রাজস্ব বণ্টনের বর্তমান কাঠামোয় আরও ভারসাম্য আনা প্রয়োজন। পাশাপাশি ডব্লিউটিসির পরবর্তী সংস্করণে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জন্য ম্যাচ বণ্টন ও সুযোগের ক্ষেত্রেও সমতা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বর্তমানে ডব্লিউটিসি কাঠামোয় ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড তুলনামূলকভাবে বেশি ম্যাচ এবং বেশি সুযোগ পাচ্ছে বলে আলোচনায় উঠে এসেছে। অন্যদিকে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দেশগুলো তুলনামূলকভাবে কম সুযোগ পাচ্ছে—এমন অভিমতও বৈঠকে উঠে এসেছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
নিচে আলোচনায় উঠে আসা প্রধান বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো—
| আলোচ্য বিষয় | দুই বোর্ডের অবস্থান |
|---|---|
| ডব্লিউটিসিতে দুই-স্তরের কাঠামো | প্রতিহত করার পক্ষে |
| আইসিসির নতুন আর্থিক চক্র | আরও ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টনের দাবি |
| ২০২৮-৩১ এফটিপি | সমতা ও ভারসাম্য নিশ্চিতের আলোচনা |
| এসিসি ও আইসিসির বিভিন্ন ইস্যু | পারস্পরিক সমর্থনের নীতি |
| অন্যান্য বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ | জোট সম্প্রসারণের উদ্যোগ |
এছাড়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের অভ্যন্তরে আরও শক্তিশালী একটি জোট গঠনের লক্ষ্যে অন্যান্য ক্রিকেট বোর্ডকে সঙ্গে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এতে মূলত সেইসব বোর্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে, যারা বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোয় নিজেদের স্বার্থ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না বলে মনে করে।
একই সঙ্গে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বিভিন্ন নীতিগত ও প্রশাসনিক বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। সূত্রটি জানিয়েছে, মহসিন নাকভি ও তামিম ইকবাল উভয়েই অন্যান্য ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইসিসি পর্যায়ে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসিসি ও আইসিসির যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একে অপরকে সমর্থন দেবে—এমন একটি নীতিগত ঐকমত্যেও পৌঁছেছে দুই বোর্ড। যদিও এ বিষয়ে বিসিবি বা পিসিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি, ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিষয়টিকে দুই বোর্ডের সম্পর্কের নতুন মাত্রা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্রিকেট প্রশাসনের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই ধরনের সমন্বয় ভবিষ্যতে আইসিসির নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত, প্রতিযোগিতার কাঠামো এবং রাজস্ব বণ্টনের প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
