জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই আগস্ট ২০২৬, ১০:৯ পিএম

বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব আয় ও ব্যয়ের তথ্য আরও বিস্তারিতভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরার তাগিদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে জাতীয় বাজেট প্রণয়ন, সরকারি আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় কেনাকাটায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর প্রকাশিত ‘২০২৬ ফিসক্যাল ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট: বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নির্দিষ্ট সময়ে বছর শেষের অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে ভালো অগ্রগতি দেখিয়েছে। প্রস্তাবিত ও অনুমোদিত বাজেট অনলাইনে উন্মুক্ত করা হলেও তা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতিমালার সঙ্গে পুরোপুরি মেলেনি। নথিতে প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে আসা আয়ের হিসাব থাকলেও নির্বাহী বিভাগগুলোর নিজস্ব সহায়তায় হওয়া ব্যয় পৃথকভাবে দেখানো হয়নি। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বরাদ্দ বাজেটে প্রকাশ করা হলেও দেশের সর্বোচ্চ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাজের স্বাধীনতায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের লাইসেন্স প্রদান ও ই-জিপি প্রক্রিয়ায় আইন মেনে চলার বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর প্রকাশিত ‘২০২৬ ফিসক্যাল ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট: বাংলাদেশ’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদনে এসব পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্যালোচনা চলাকালে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার অর্থছাড় ও বছর শেষের অর্থনৈতিক প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকাশ করে বেশ কিছু ক্ষেত্রে ভালো অগ্রগতি দেখিয়েছে। এর পাশাপাশি বিগত সরকারের রেখে যাওয়া বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কিছু সুপারিশ অনুসরণ করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা বাড়াতে সংস্কার মূলক পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টিও উঠে এসেছে।
বাংলাদেশের আর্থিক স্বচ্ছতা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ প্রদান করেছে:
আন্তর্জাতিক স্বীকৃত নীতি মেনে পূর্ণাঙ্গ বাজেট নথি প্রকাশ ও নির্বাহী কার্যালয়গুলোর ব্যয় আলাদাভাবে প্রদর্শন করা।
অনুমোদিত বাজেটের সঙ্গে বছর শেষে প্রকৃত রাজস্ব আয় ও বাস্তব ব্যয়ের বৈষম্য দূর করা।
সর্বোচ্চ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা ও পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
নিয়মিত বিস্তারিত নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ও সরকারি ক্রয়ের চুক্তির তথ্য সবার জন্য উন্মুক্ত করা।
সার্বিকভাবে, পূর্ণাঙ্গ অর্থবছরের বাস্তবায়িত বাজেটের তথ্য যাতে সরাসরি নাগরিকদের নাগালে আসে, সেজন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ বরাদ্দ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে। আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদার করতে এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করা এখন অত্যন্ত জরুরি।
মন্তব্য