,

মানিকগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতার হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ

মানিকগঞ্জে জেলা ছাত্রলীগের এক নেতাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় তাঁর দুই হাত ও দুই পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। রোববার গভীর রাতে মানিকগঞ্জ সদর ও সিংগাইর থানার সীমান্তবর্তী একটি ইটভাটায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত বশির উদ্দিন মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের উপ-কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক। তিনি সদর উপজেলার বেতিলা মিতরা ইউনিয়নের পালোরার চর গ্রামের বাসিন্দা মো. মনিরের ছেলে। হামলার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।

সিংগাইর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফাহিম আসজাদ জানান, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি। তবে প্রাথমিকভাবে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, হামলাকারীরা বশিরের পরিচিত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাঁদের বাড়িও মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায়। গভীর রাতে বশিরকে কেন ওই ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং সেখানে কারা তাঁর ওপর হামলা চালিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ওসি আরও জানান, হামলায় সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

এদিকে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি অভিযোগ সামনে এসেছে। সোমবার দুপুরে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হামলার জন্য ছাত্রদলকে দায়ী করা হয়।

তবে ছাত্রলীগের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ছাত্রদল। সংগঠনটির জেলা সভাপতি আবদুল খালেক শুভ অভিযোগটিকে ‘ভিত্তিহীন ও অপপ্রচার’ বলে দাবি করেছেন।

আবদুল খালেক শুভর দাবি, ঘটনাটি ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং মাদক ব্যবসার অর্থ ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে ঘটেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গভীর রাতে বশির তাঁর পরিচিত বন্ধুদের সঙ্গে ওই ইটভাটায় ছিলেন এবং তাঁদের মধ্যকার বিরোধের জেরেই হামলার ঘটনা ঘটে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ আড়াল করতে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

তবে ছাত্রদলের এসব বক্তব্যও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। একইভাবে হামলার পেছনে আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নাকি অন্য কোনো কারণ ছিল—তা এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ।

ঘটনার পর তদন্তে বশিরের সঙ্গে কারা ইটভাটায় ছিলেন, কেন তিনি সেখানে গিয়েছিলেন এবং হামলার আগে সেখানে কী ঘটেছিল—এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে হামলাকারীদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

বশিরের চিকিৎসা ঢাকার হাসপাতালে চললেও তাঁর শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তদন্ত শেষ হলে হামলার প্রকৃত কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।