জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই আগস্ট ২০২৬, ৩:৪২ পিএম

প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের জন্য দিনটি ছিল হতাশার। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ব্যবধানে হারের পর ব্যাটিং নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে সেই হতাশার মধ্যেও বাংলাদেশ শিবিরে এসেছে স্বস্তির খবর। আঙুলের চোটে পড়া বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন। প্রথম টেস্টের আগেই অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটারকে পুরোপুরি ফিট পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী দলের ফিজিও বায়জিদুল ইসলাম।
প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিন ব্যাটিং করার সময় আঙুলে চোট পান তাইজুল। এরপর আঙুলে ব্যথা ও ফোলাভাব দেখা দিলে ম্যাচের বাকি অংশে তাকে স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করা যায়নি। প্রথম ইনিংস শেষে বোলিংয়েও নামতে পারেননি তিনি। এমনকি দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সময়ও মাঠে ছিলেন না এই স্পিনার।
তাইজুলের চোট নিয়ে উদ্বেগের কারণও কম ছিল না। অস্ট্রেলিয়া সফরের এই সিরিজে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য নাহিদ রানা আগে থেকেই অনুপস্থিত। পাশাপাশি ব্যাটিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় লিটন দাসকে নিয়েও রয়েছে সংশয়। এমন পরিস্থিতিতে তাইজুলের চোট গুরুতর হলে বাংলাদেশের বোলিং পরিকল্পনা ও একাদশের ভারসাম্য—দুই ক্ষেত্রেই চাপ বাড়তে পারত।
তবে আপাতত সেই শঙ্কা অনেকটাই দূর হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় দলের ফিজিও বায়জিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, চোট পাওয়ার পর তাইজুলের অবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। আঙুলের ব্যথা ও ফোলাভাব আগের তুলনায় কমেছে। এখন দলের মেডিকেল ও সাপোর্ট স্টাফের প্রধান লক্ষ্য, হাতে থাকা সময়টুকু কাজে লাগিয়ে তাকে টেস্ট ম্যাচের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করে তোলা।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পাঠানো ভিডিও বার্তায় বায়জিদুল জানান, প্রথম দিনের চোটের পর তাইজুলের আঙুলে যে ব্যথা ও ফোলাভাব তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কমে এসেছে। প্রথম টেস্ট শুরু হওয়ার আগে কয়েক দিন সময় থাকায় তার পুনর্বাসন এবং ধীরে ধীরে ক্রিকেটীয় কার্যক্রমে ফেরার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি জানান।
তবে চোটের উন্নতি হলেও এখনই তাইজুলকে শতভাগ ফিট ধরে নেওয়া হচ্ছে না। টেস্ট ম্যাচে একজন স্পিনারের জন্য দীর্ঘ সময় বোলিং করা, বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা এবং বারবার হাতের ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই মাঠে ফেরানোর আগে তার আঙুলের অবস্থা, বোলিং করার সক্ষমতা এবং সামগ্রিক ফিটনেস পরীক্ষা করে দেখবে দলের মেডিকেল ও কোচিং স্টাফ।
বাংলাদেশের জন্য তাইজুলকে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি কারণে। টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বাঁহাতি স্পিনের পাশাপাশি দীর্ঘ স্পেলে বল করার সক্ষমতা তাকে দলের বোলিং আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করেছে। বিশেষ করে টেস্টের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের ওপর চাপ তৈরি করতে তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে।
অন্যদিকে প্রস্তুতি ম্যাচের পারফরম্যান্স বাংলাদেশকে যথেষ্ট ভাবাচ্ছে। মাত্র ৫৪ রানে প্রথম ইনিংস শেষ হয়ে যাওয়ার পর দলকে ইনিংস ব্যবধানে হারতে হয়েছে। টেস্ট সিরিজের আগে এমন ব্যাটিং ব্যর্থতা স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে নতুন বল সামলানো, প্রথম কয়েকটি সেশন পার করা এবং উইকেটে দীর্ঘ সময় ব্যাট করার সক্ষমতা বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে।
তাই প্রস্তুতি ম্যাচের ফল থেকে ইতিবাচক কিছু খুঁজে পাওয়া কঠিন হলেও তাইজুলের দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার খবরটি দলের জন্য মূল্যবান স্বস্তি। নাহিদ রানার অনুপস্থিতি এবং লিটন দাসকে ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যে অন্তত বোলিং আক্রমণের অভিজ্ঞ একজন সদস্যকে ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা বাংলাদেশের পরিকল্পনাকে কিছুটা স্থিতিশীল করতে পারে।
বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ শুরু হবে ১৩ আগস্ট ডারউইনে। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ২২ আগস্ট ম্যাকাইতে। প্রথম টেস্টের আগে হাতে থাকা কয়েকটি দিন তাইজুলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে চোট পুরোপুরি কাটিয়ে বোলিং অনুশীলনে ফিরতে পারলে তাকে একাদশে রাখার সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
প্রস্তুতি ম্যাচের বড় হার বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে এসেছে। এখন দলের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সেই ব্যর্থতা থেকে দ্রুত শিক্ষা নিয়ে টেস্ট সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানো। সেই লড়াইয়ে তাইজুল ইসলামকে পুরোপুরি সুস্থ অবস্থায় পাওয়া বাংলাদেশের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় স্বস্তির খবর।
মন্তব্য