জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই আগস্ট ২০২৬, ৩:৩৮ পিএম

দিনাজপুর থেকে বাসযোগে ঢাকায় যাওয়ার পথে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পঞ্চগড় পৌর শাখার সভাপতি এবং পঞ্চগড় সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান কাজী আল তারিককে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। ৪৪ বছর বয়সী এই নেতাকে শুক্রবার রাত ২টার দিকে দিনাজপুরের বিরামপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, কাজী আল তারিকের বিরুদ্ধে পঞ্চগড় সদর থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি এবং তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও ছিল। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পলাতক ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া কাজী আল তারিক পঞ্চগড় পৌরসভার রামেরডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা। তাঁকে গ্রেফতারের পর প্রথমে সদর থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পরে শুক্রবার বিকেলে পঞ্চগড়ের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এএসএম সাজ্জাদ হোসেনের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
পঞ্চগড় জেলা পুলিশের দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ জানতে পারে, কাজী আল তারিক ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ এলাকা থেকে বাসে করে দিনাজপুরের বিরামপুর হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
তথ্য পাওয়ার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল বিরামপুর বাস টার্মিনাল এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় বিরামপুর থানার হাইওয়ে পুলিশের টহল দলের সহায়তা নেওয়া হয়। পরে ‘আহাদ’ নামের ঢাকাগামী একটি চলন্ত বাস থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। রাত ২টার দিকে ওই বাস থেকেই কাজী আল তারিককে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারের পর তাঁকে পঞ্চগড়ে নিয়ে আসা হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতের আদেশ অনুযায়ী তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কাজী আল তারিক পঞ্চগড় পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ার পাশাপাশি এর আগে সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলার অভিযোগও রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পঞ্চগড় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোখলেছুর রহমান কাজী আল তারিকের গ্রেফতার এবং আদালতের মাধ্যমে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের এই গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে মামলাগুলোতে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
মন্তব্য