কুষ্টিয়ায় জেলা বিএনপির একটি মতবিনিময় সভায় ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত উপস্থিত ছিলেন। তবে সংঘর্ষের কারণ, এতে কতজন আহত হয়েছেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে—এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আয়োজিত ওই মতবিনিময় সভায় দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভার উদ্দেশ্য ছিল দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মতবিনিময় এবং সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা। এর মধ্যেই ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয় এবং তা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে গড়ায় বলে জানা গেছে।
কুষ্টিয়ায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধের ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। এর আগে বিভিন্ন সময় দলটির স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ, কমিটি গঠন এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধের খবর এসেছে। ২০২৫ সালের জুনে ভেড়ামারা উপজেলায় ইউনিয়ন বিএনপির সার্চ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছিল।
২০২৬ সালেও কুষ্টিয়ায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধের একাধিক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। ফেব্রুয়ারিতে কুষ্টিয়া সদর-৩ আসনের নির্বাচনী ফলাফলকে কেন্দ্র করে দলটির অঙ্গসংগঠনের দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন ঘটনাগুলো দলীয় শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক সমন্বয়ের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে। বিশেষ করে মতবিনিময় বা সাংগঠনিক সভার মতো কর্মসূচিতে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি থাকায় সেখানে বিরোধ প্রকাশ্যে এলে তা দ্রুত উত্তেজনায় রূপ নিতে পারে।
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির মতবিনিময় সভায় অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের উপস্থিতি রাজনৈতিকভাবে ঘটনাটিকে আরও আলোচনায় এনেছে। অমিত বর্তমানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যশোরের রাজনীতিরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
তবে সভায় সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে প্রত্যক্ষদর্শী, সংশ্লিষ্ট পক্ষ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য পাওয়া না গেলে কোনো পক্ষের ওপর দায় চাপানো সমীচীন হবে না। একইভাবে সংঘর্ষে আহতের সংখ্যা, কারা এতে জড়িত ছিলেন বা পরে কোনো সাংগঠনিক কিংবা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও নিশ্চিত তথ্য ছাড়া বলা যাচ্ছে না।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন কুষ্টিয়ায় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও নেতৃত্বের প্রশ্নে নানা আলোচনা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় দলীয় নেতাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও বিরোধের খবরও প্রকাশ্যে এসেছে।
মতবিনিময় সভার মতো কর্মসূচির মূল লক্ষ্য যেখানে সাংগঠনিক আলোচনা ও নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা, সেখানে দুই পক্ষের সংঘর্ষ সেই উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করেছে। এখন ঘটনার প্রকৃত কারণ, জড়িতদের পরিচয় এবং পরবর্তী সাংগঠনিক পদক্ষেপ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যই বিষয়টির পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট করতে পারে।









