জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ই জুলাই ২০২৬, ৩:৫২ পিএম

ফেনীর ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের লালপুল এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি এড়িয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ফেনী সরকারি কলেজ শাখার ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালবেলায় লালপুল এলাকায় হঠাৎ করেই মিছিলটি শুরু হয়। অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের একটি অংশ প্রদক্ষিণ করেন। পরে মিছিলটি ফেনী সদর উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের দিকে চলে যায়। পুরো কর্মসূচি কয়েক মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
মিছিলটির নেতৃত্বে ছিলেন ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নোমান হাবিব। মিছিলের সময় তাকে সাদা গেঞ্জি পরিহিত অবস্থায় সামনের সারিতে দেখা যায়। অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই মুখে মাস্ক পরেছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ফেনী-১ আসনের সাবেক আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম শুক্রবার বেলা ১১টা ২৬ মিনিটের দিকে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে মিছিলের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন। ওই পোস্টে তিনি আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাজা বাতিল, দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং রাজবন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের পর ঘটনাটি দ্রুত আলোচনায় আসে। এরপর স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ঘটনাটি যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ নেয়। পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়েছে, কারা এতে অংশ নিয়েছেন এবং আইনশৃঙ্খলার দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ফেনী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিশাত তাবাসসুম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিছিলের ভিডিও ও ছবি দেখার পর বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃতি যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ফেনী মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা সজল কান্তি দাস জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দল ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের লালপুল এলাকায় যায়। সেখানে আশপাশের দোকানদার, স্থানীয় বাসিন্দা এবং সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হওয়ায় এ ধরনের আকস্মিক কর্মসূচি জননিরাপত্তা ও যান চলাচলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা, সংঘর্ষ বা যান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্নের খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার পর ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
মন্তব্য