খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ই জুলাই ২০২৬, ১১:৩৬ পিএম

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ সংলগ্ন এলাকায় শনিবার রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ৮ নম্বর গেটের কাছে থাকা একটি ময়লার স্তূপ থেকে আগুনের সূত্রপাত হলে মুহূর্তের মধ্যেই ধোঁয়া ছড়াতে থাকে। তবে বিমানবন্দরে নিয়োজিত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে দেশের প্রধান এই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, শনিবার রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটের দিকে ৮ নম্বর গেটসংলগ্ন কার্গো ভিলেজ এলাকা থেকে হঠাৎ ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। সংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিমানবন্দরে দায়িত্বে থাকা ফায়ার ফাইটাররা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্তব্যরত কর্মকর্তা রাশেদ বিন খালেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তবে উদ্ধারকারী দলগুলো পৌঁছানোর আগেই বিমানবন্দরের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপক দল দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে বাইরের ইউনিটগুলো গিয়ে কোনো সরাসরি শিখা দেখতে পায়নি, তবে কার্গো এলাকার পাশের ময়লার স্তূপে প্রমিত ধোঁয়া দেখতে পেয়ে তা পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলে।
প্রাথমিকভাবে ঠিক কী কারণে অগ্নিকাণ্ড কিংবা ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়েছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তদারকি এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ার পরই বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ জানিয়েছে।
দেশের অতীব সংবেদনশীল এই কেপিআই (Key Point Installation) এলাকায় বারবার কার্গো ও কুরিয়ার শেডে আগুনের ঘটনা ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কিছুটা দুশ্চিন্তা তৈরি করছে। ইতিপূর্বে ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল, যেখানে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত প্রচুর মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
এছাড়া ২০২৪ সালের ৫ জুন বিমানবন্দরের ৯ নম্বর গেটসংলগ্ন কুরিয়ার শেডেও একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেই সময়ে সিভিল অ্যাভিয়েশনের নিজস্ব স্কোয়াড ও ফায়ার সার্ভিসের একাধিক টিম যৌথভাবে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অত্যন্ত সুরক্ষিত এই এলাকায় ঘন ঘন এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সার্বিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও নজরদারি আরও জোরদার করার তাগিদ দিচ্ছে।
মন্তব্য