খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ই জুলাই ২০২৬, ১১:২১ পিএম

রাজধানী ঢাকায় তীব্র গ্যাসসংকটের কারণে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে সিএনজিচালিত গণপরিবহন খাতে। লাইনে চাহিদামতো গ্যাসের চাপ না থাকায় অধিকাংশ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে অতি ধীরগতিতে বিকোচ্ছে গ্যাস। কোথাও কোথাও প্রেশার একেবারে নেমে যাওয়ায় সাময়িকভাবে রিফুয়েলিং বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন পাম্প মালিকেরা। এর সরাসরি প্রভাব গিয়ে পড়েছে চালকদের ওপর—ঘণ্টার পর ঘণ্টা সারিতে দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি।
শনিবার সকাল থেকেই রাজধানীর মালিবাগ, খিলগাঁও, কুড়িল বিশ্বরোড, মতিঝিল, মানিকনগর, বনশ্রী, মুগদা ও সবুজবাগসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে স্টেশনসংলগ্ন সড়কগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। বাস, সিএনজি অটোরিকশা ও প্রাইভেটকারের চাপ সামলাতে গিয়ে আশেপাশের রাস্তায় তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট। তিতাস গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
তবে কেবল যানবাহনেই সীমাবদ্ধ নেই এই দুর্ভোগের আঁচ। আবাসিক এলাকাগুলোর চিত্রও প্রায় একই। রাজধানীর বড় একটি অংশে গৃহস্থালির লাইনে প্রেশার কমে যাওয়ায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বহু বাসাবাড়িতে চুলা ফোটানোই সম্ভব হয়নি। এতে প্রাত্যহিক রান্নাবান্না বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে সাধারণ পরিবারগুলো, যার ফলে অনেককেই বিকল্প হিসেবে বাইরের হোটেলের তৈরি খাবারের ওপর ভরসা করতে হচ্ছে।
পরিবহন চালকদের ভাষ্যমতে, এক সপ্তাহ ধরে এই সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। সকাল গড়িয়ে দুপুর পার হয়ে গেলেও গ্যাসের অভাবে রাস্তায় গাড়ি নামানো যাচ্ছে না। দিনশেষে আয় তলানিতে গিয়ে ঠেকলেও গাড়ির মালিকের দৈনন্দিন জমা, কিস্তি এবং পরিবারের বাজার খরচের হিসাব কিন্তু এতটুকু কমেনি।
মালিবাগ হাজীপাড়ার একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে জটলায় দাঁড়িয়ে থাকা চালক আবদুল কাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভোরে লাইনে এসে দাঁড়িয়েছি, অথচ দুপুর পার হয়ে গেল গ্যাস পেলাম না। সারা দিন যদি পাম্পের লাইনেই কেটে যায়, তবে ট্রিপ দেব কখন আর আয়-রোজগারই বা কীভাবে হবে?”
কুড়িল বিশ্বরোডের শান্ত সিএনজি স্টেশনে অপেক্ষমাণ অটোরিকশাচালক সুমন মিয়ার অভিজ্ঞতাও ভিন্ন কিছু নয়। তিনি জানান, কয়েক দিন ধরে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা রোদে পুড়ে যেটুকু গ্যাস মেলে, তা দিয়ে মোটে দুটো ট্রিপ দেওয়া যায়। এরপর আবারও গ্যাসের জন্য লাইনে ফিরে আসতে হয়। এ ধারা চলতে থাকলে মালিকের জমার টাকা তো ওঠেই না, উল্টো পকেটের টাকা খরচ করে দিন পার করতে হচ্ছে।
একই হতাশার সুর শোনা গেল মানিকনগরের বেস্ট ইস্টার্ন স্টেশনের চালক কামাল হোসেনের কণ্ঠে। দিনের পুরোটা সময় রিফুয়েলিং পাম্পের লাইনে কাটা পড়ার কারণে আয় নেমে এসেছে অর্ধেকেরও নিচে, যা দিয়ে বর্তমান বাজারে পরিবার সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতির জটিলতা স্বীকার করে মুগদা বিশ্বরোডের শান্ত সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম জানান, পর্যাপ্ত গ্যাস প্রেশার না থাকায় তাঁদের দুটি কমপ্রেসারের মধ্যে একটি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে একটি কমপ্রেসারে সীমিত রিফুয়েলিং চালু রাখায় গাড়ির চাপ সামলানো যাচ্ছে না। দ্রুত তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ লাইনে চাপ স্বাভাবিক না করলে স্টেশন সচল রাখা ও কর্মীদের বেতন মেটানো দায় হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্তব্য