খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ই জুলাই ২০২৬, ৬:৪৭ পিএম

রাজধানীর ধানমন্ডির ৫ নম্বর সড়কে অবস্থিত সুধা সদনের পরিত্যক্ত প্রাঙ্গণ থেকে মো. শাকিল (২০) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৫ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে ভবনটির ভেতর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ধানমন্ডি থানার একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত শাকিল রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা সেকান্দার আলী মাতুব্বর ও আসমা বেগম দম্পতির সন্তান। তবে তিনি কীভাবে ওই পরিত্যক্ত ভবনে গেলেন এবং কী পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ ওয়াদুজ্জামান জানান, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সুধা সদনের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতরে এক যুবককে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, মরদেহ উদ্ধারের সময় তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইমসিন ইউনিটকে জানানো হয়। সিআইডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি মরদেহের আঙুলের ছাপ নেন। প্রযুক্তিগত সহায়তায় ওই ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাই করে পরবর্তী সময়ে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর পর চিকিৎসকদের মাধ্যমে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, শাকিলের মৃত্যুর ঘটনাটি আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা এখনো নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ ঘটনাটির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে। নিহত যুবক কী উদ্দেশ্যে সুধা সদনের পরিত্যক্ত প্রাঙ্গণে গিয়েছিলেন, তাঁর মৃত্যুর আগে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল কি না এবং মৃত্যুর সঙ্গে অন্য কোনো বিষয় জড়িত রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এ বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
মন্তব্য