খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ই জুলাই ২০২৬, ৭:৫ পিএম

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতি ভঙ্গের অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি)। মানবাধিকার সংস্থা ফেয়ারস্কয়ার অভিযোগটি তুলেছিল। তাদের দাবি ছিল, ইনফান্তিনো একাধিকবার আইওসির রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক আচরণ করেছেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে সমর্থন দিয়েছেন।
শুক্রবার আইওসির এক মুখপাত্র এএফপিকে জানান, সংস্থাটির নীতি ও নৈতিকতা কমিশন ফেয়ারস্কয়ারের অভিযোগ পর্যালোচনা করেছে। তবে অলিম্পিক চার্টারের বিধান অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ফেডারেশনগুলো তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম ও প্রশাসনে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয়। ফলে ফিফা সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর কর্মকাণ্ড নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগটি আইওসির নীতি ও নৈতিকতা কমিশনের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আইওসির ব্যাখ্যায় মূলত আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর স্বায়ত্তশাসনের বিষয়টিই সামনে এসেছে। অলিম্পিক চার্টার অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ফেডারেশনগুলো নিজেদের পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রাখে। এ কারণে কোনো আন্তর্জাতিক ফেডারেশনের প্রধানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা সংক্রান্ত অভিযোগ উঠলেও সেটি সরাসরি আইওসির নীতি ও নৈতিকতা কমিশনের বিচারাধীন হবে না—এমন অবস্থানই নিয়েছে সংস্থাটি।
অন্যদিকে, আইওসির প্রায় একশ সদস্য শপথ নেওয়ার সময় বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ থেকে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করেন। ইনফান্তিনোও এই সদস্যদের একজন। অলিম্পিক চার্টারেও সদস্যদের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতার বিষয়ে নীতিগত দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ রয়েছে। এই জায়গা থেকেই ফেয়ারস্কয়ার ইনফান্তিনোর কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতেও ইনফান্তিনোকে ঘিরে ওঠা আরেকটি বিতর্কে আইওসি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন দেখেনি। সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে আয়োজিত বোর্ড অব পিসের প্রথম বৈঠকে ইনফান্তিনোর উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বৈঠকে তাঁকে লাল রঙের একটি টুপি পরতে দেখা যায়, যার গায়ে ‘ইউএসএ’ এবং ‘৪৫-৪৭’ লেখা ছিল। অভিযোগকারীদের মতে, সংখ্যাগুলো ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দুই মেয়াদের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।
তবে ওই বিতর্কের সময় আইওসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা জানতে পেরেছে যে গাজা ও ফিলিস্তিনে ক্রীড়া পুনরুদ্ধারে একটি বৃহৎ বিনিয়োগ কর্মসূচিতে ফিফা সহায়তা করছে। এর আওতায় ক্রীড়া অবকাঠামো, শিক্ষা এবং উচ্চপর্যায়ের ক্রীড়া উন্নয়নের প্রস্তাব রয়েছে বলে জানানো হয়। আইওসির ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ফেডারেশন হিসেবে ফিফার এ ধরনের উদ্যোগ তার দায়িত্ব ও ভূমিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একইভাবে, অলিম্পিক সলিডারিটির আওতায় আইওসিও বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রীড়া উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
ইনফান্তিনো ও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি অবশ্য এর আগেও প্রকাশ্যে এসেছে। গত ডিসেম্বরে ফিফা তাদের প্রথম শান্তি পুরস্কার ট্রাম্পকে দেয়। পুরস্কার ঘোষণার সময় ইনফান্তিনো বলেছিলেন, বিশ্বজুড়ে শান্তি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘অসাধারণ ও ব্যতিক্রমী’ ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁকে এই সম্মান দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ চলাকালে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের ওপর আরোপিত লাল কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আগে তিনি নিজেই ইনফান্তিনোকে ফোন করেছিলেন। সেই দাবি ফুটবল প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনের মধ্যে ইনফান্তিনোর সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।
সর্বশেষ অভিযোগ খারিজের মাধ্যমে আইওসি স্পষ্ট করেছে যে, ফিফার মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ফেডারেশনের নিজস্ব প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে তার নীতি ও নৈতিকতা কমিশনের এখতিয়ার সীমিত। ফলে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ফেয়ারস্কয়ারের তোলা রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ভঙ্গের অভিযোগটি আইওসির পর্যায়ে আর এগোচ্ছে না।
মন্তব্য