খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ই জুলাই ২০২৬, ২:৩৪ পিএম

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিজান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। সৌদি আরবের সামরিক পদক্ষেপের প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর শনিবার, ২৫ জুলাই দুপুরে এই হামলার দাবি করে গোষ্ঠীটি।
হুথিদের আনসারুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলের বরাতে জানা যায়, ইয়েমেন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের পর জিজান এলাকায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তবে হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষও হামলার ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো বিবৃতি দিয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা স্পষ্ট নয়।
হামলার দাবির আগে সৌদি আরব হুথিদের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ চলাচলকে ঘিরে হুথিদের হুমকি এবং জাহাজে হামলার পরিপ্রেক্ষিতেই সৌদি সামরিক অভিযান চালানো হয় বলে জানা গেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় হুথিরা সৌদি আরবের পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা’ হিসেবে অভিহিত করে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়।
এরই মধ্যে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জিজান ও ইয়ানবু এলাকার বাসিন্দাদের জন্য স্বল্প সময়ের একটি সতর্কতা জারি করেছিল। বাসিন্দাদের সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করা হলেও কয়েক মিনিট পরই সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পরে জানানো হয়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
জিজান সৌদি আরবের ইয়েমেন সীমান্তের কাছাকাছি একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইয়েমেনের সংঘাতের প্রভাব অতীতেও এই অঞ্চলে পড়েছে। ফলে হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
লোহিত সাগর ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই জলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সেখানে হামলা বা নৌযান চলাচলে বাধা তৈরি হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাতেও প্রভাব পড়তে পারে। হুথিরা অতীতে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজ এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন নৌযানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে। এসব ঘটনার জেরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে বিকল্প নৌপথ ব্যবহারের প্রবণতাও দেখা গেছে।
বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনাও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। ইরানকে ঘিরে সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডরে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানো হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে তাঁর দাবি, তেহরান বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় গুরুত্ব সহকারে অংশ নিচ্ছে।
জিজানে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি সত্য হলে এটি সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার নতুন মাত্রা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে লোহিত সাগরে নৌনিরাপত্তা, ইয়েমেনের সংঘাত এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা একই সময়ে সক্রিয় থাকায় পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথের দিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে হামলার প্রকৃত মাত্রা, ক্ষয়ক্ষতি এবং এর পেছনে থাকা সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত দাবিটির পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট নয়।
মন্তব্য