খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুলাই ২০২৬, ৪:১৬ পিএম

বিশ্বকাপের মেগা আসরের পর্দা আনুষ্ঠানিকভাবে নেমে গেলেও ফাইনাল ঘিরে জন্ম নেওয়া বিতর্কের রেশ যেন কিছুতেই থামছে না। নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা নিজেদের করে নেয় স্পেন। তবে এই ফলাফলে সন্তুষ্ট হতে পারেননি অনেক আর্জেন্টাইন ভক্ত। বিশেষ করে রেফারিং ও ভিএআর (VAR) প্রযুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ম্যাচটি পুনরায় আয়োজনের দাবিতে আর্জেন্টিনায় এক তুমুল অনলাইন প্রচারণা শুরু হয়েছে। বর্তমানে এই গণস্বাক্ষর অভিযানে ৬১ হাজার ৫০০-এর বেশি সমর্থক তাঁদের সই দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক পিটিশন প্ল্যাটফর্ম চেঞ্জডটওআরজি-তে গিসেলা সানচেজ নামের এক আর্জেন্টাইন সমর্থক এই অভিনব উদ্যোগটি চালু করেন। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে পেশ করা এই আবেদনে ফাইনাল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা স্লোভেনিয়ান রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের নানা সিদ্ধান্ত এবং ভিএআর মনিটরিং ব্যবস্থার ভূমিকা পুনর্মূল্যায়নের কড়া দাবি জানানো হয়েছে।
পিটিশনের উদ্যোক্তা সরাসরি অভিযোগ এনেছেন যে, খেলার মধ্যে এমন কিছু রেফারিং সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যা ম্যাচের শেষ পরিণতি বদলে দিয়েছে। যদিও আবেদনের সপক্ষে শক্ত কোনো যাচাইকৃত তথ্য বা দাপ্তরিক প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি, তবুও লাখো ভক্তের সেন্টিমেন্টকে প্রাধান্য দিয়ে পুরো বিষয়ের একটি সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছেন তিনি।
অবশ্য বিশ্ব ফুটবলের আইন ও ফিফার প্রচলিত কাঠামোর দিকে তাকালে বিষয়টি সম্পূর্ণ অন্য রূপ পায়। সংস্থাটির বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ বাতিল করে পুনরায় আয়োজন করতে গেলে অতিমাত্রায় ব্যতিক্রমী ও বিশেষ প্রশাসনিক পরিস্থিতির প্রয়োজন হয়। নিছক কোনো অনলাইন পিটিশন বা জনমতের আবেগকে ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ফলাফল বদলে দেওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই। ফলে এই ধরনের আবেদনের কোনো আনুষ্ঠানিক বা বাধ্যতামূলক আইনি বৈধতাও থাকে না।
চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে অবশ্য এমন ডিজিটাল প্রতিবাদ এটাই প্রথম নয়। টুর্নামেন্ট চলাকালেই স্পেনের বিপক্ষে সেমিফাইনালে একটি বিতর্কিত অন-ফিল্ড কল নিয়ে ফ্রান্সেও একই ধরনের অনলাইন ক্যাম্পেইন গড়ে উঠেছিল। সেখানেও প্রায় ৮২ হাজারের বেশি ফরাসি সমর্থক স্বাক্ষর করে সেমিফাইনাল পুনরায় খেলার জোর দাবি জানিয়েছিলেন। তবে নিয়মের বেড়াজালে শেষ পর্যন্ত সেই আবেদনটি কোনো ফল বয়ে আনতে পারেনি।
স্মরণীয় সেই ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেররান তোরেসের দুর্দান্ত এক গোলে জয় নিশ্চিত করে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট মাথায় তোলে স্পেন। শিরোপা হাতছাড়া হলেও আর্জেন্টিনাজুড়ে ভক্তদের ভালোবাসা কমেনি। দেশের হাজার হাজার সমর্থক রাজপথে নেমে লিওনেল মেসি ও তাঁর সতীর্থদের অদম্য লড়াইয়ের প্রতি শ্রদ্ধাও জানান। তবে ফাইনালের পরপরই রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সের কিছু জায়গায় সমর্থকদের একাংশের সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছুটা অপ্রীতিকর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল, যা আনন্দের আবহকে কিছুটা হলেও মলিন করে দেয়।
মন্তব্য