কারাগারে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু
খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুলাই ২০২৬, ৩:৩৫ পিএম
সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবলু মিয়া (৫২) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহত বাবলু মিয়া সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাহুকা ইউনিয়নের পূর্ব বাহুকা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বাবলু মিয়া রতনকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারের সুপার মো. রফিকুল ইসলাম বাবলু মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রায় এক মাস আগে বাবলু মিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে বন্দি ছিলেন।
কারাগার কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন বাবলু মিয়া। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে কারাগার থেকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
বাবলু মিয়ার অসুস্থতার ধরন, হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার শারীরিক অবস্থা এবং মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
কারাগারে থাকা কোনো বন্দি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় নেওয়া হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী কারাগারের বাইরে সরকারি হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থাও করা হয়ে থাকে। বাবলু মিয়ার ক্ষেত্রেও অসুস্থ হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল বলে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
প্রায় এক মাস ধরে কারাগারে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে তার মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে জানতে চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বাবলু মিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা রাজনৈতিক মামলাটি কী ধরনের ছিল, মামলায় তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছিল এবং তিনি কারাগারে যাওয়ার আগে কোনো শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন কি না—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। তার মৃত্যুর পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং দাফনসংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
মন্তব্য