কক্সবাজারের টেকনাফে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছেলের ছুরিকাঘাতে আবুল কাসেম (৫৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. হারুনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
নিহত আবুল কাসেম টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের হামজারছড়া গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘লেডু মিস্ত্রি’ নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আলী আবুল কাসেমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পারিবারিক একটি বিষয় নিয়ে আবুল কাসেম ও তাঁর ছেলে হারুনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে গেলে হারুন ঘর থেকে একটি ধারালো ছুরি নিয়ে বাবার ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ সময় আবুল কাসেমের বুক ও পেটে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলে পড়ে গেলে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক রাত কাটানোর পর তাঁর মৃত্যু হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আলী বলেন, পারিবারিক একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে বাবা ও ছেলের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল। পরে সেই বিরোধ এতটা ভয়াবহ রূপ নেবে, তা কেউ ধারণা করতে পারেননি। তিনি নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে থাকার কথা বলেন।
ঘটনার পর অভিযুক্ত হারুন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাঁর অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ছেলের ছুরিকাঘাতে বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে। একই সঙ্গে বাবা-ছেলের বিরোধের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং হামলার আগে ও পরের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পারিবারিক বিরোধ থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। তবে বিরোধের প্রকৃত কারণ এবং কী পরিস্থিতিতে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে আরও পরিষ্কার হবে। একজন পরিবারের সদস্যের হাতে আরেকজনের প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায়ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।








