কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা পড়ে থাকা একটি বাড়ির পুকুর থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক কিশোরের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার নাথেরপেটুয়া ইউনিয়নের বিনয়ঘর গ্রামের উত্তরপাড়া এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় অধিবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলের দিকে বিনয়ঘর গ্রামের উত্তরপাড়ার ওই পরিত্যক্ত ভিটায় গাছ কাটার কাজ করছিলেন একদল স্থানীয় শ্রমিক। গাছ কাটা শেষ করে পুকুরপাড় দিয়ে গুঁড়িগুলো সরানোর সময় পচাগলা দুর্গন্ধ পান তাঁরা। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা পুকুরের থিকথিকে কচুরিপানার নিচে একটি মানবদেহ আটকে থাকতে দেখেন। খবরটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের কৌতূহলী মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমান। পরে স্থানীয় নাথেরপেটুয়া পুলিশ ফাঁড়ি মারফত খবর পেয়ে মনোহরগঞ্জ ও পাশ্ববর্তী নাঙ্গলকোট থানা-পুলিশের টিম যৌথভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি পানি থেকে ডাঙ্গায় তোলে।
লাশ উদ্ধারের খবর চাউর হওয়ার পর নাঙ্গলকোট উপজেলার মক্রবপুর ইউনিয়নের টুয়া গ্রাম থেকে একটি পরিবার মনোহরগঞ্জে ছুটে আসে। তারা জানান, প্রায় দেড় মাস আগে মিশুক অটোরিকশাসহ তাঁদের পরিবারের এক কিশোর নিখোঁজ হয়েছিল। পুকুর থেকে তোলা মরদেহের পরনের গলিত জামাকাপড় ও অবয়ব দেখে সেটি নিখোঁজ আরমান হোসেনের (১৫) বলে প্রাথমিক দাবি করেন স্বজনেরা।
নিহতের নানা মুশফিকুর রহমান মানছু সংবাদমাধ্যমকে জানান, আরমানের মূল বাড়ি সিলেটে হলেও সে দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে নানার বাড়িতে থেকে অটোরিকশা চালাত। গত এক মাস ১৬ দিন আগে প্রতিদিনের মতো রিকশা নিয়ে বের হয়ে সে আর বাড়ি ফেরেনি। সেই থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর ইসলাম জানান, কিশোর আরমান নিখোঁজের ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে নাঙ্গলকোট থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই মামলার তিন সন্দেহভাজন আসামিকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনেছে। তবে মনোহরগঞ্জে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি নিখোঁজ অটোরিকশাচালক আরমানেরই কি না, তা কেবল পোশাক দেখে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আহমেদ জানান, লাশটি এতটাই পচে গলে গেছে যে চেহারা চেনার উপায় নেই। ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে মরদেহটি কচুরিপানার নিচে পানির গভীরে জমে ছিল। পুলিশ সুরতহাল শেষ করে রোববার সকালে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। মরদেহের ডিএনএ পরীক্ষার আইনি আবেদন করা হয়েছে, যার রিপোর্ট এলে পরিচয়ের বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে খবর পেয়ে রাতেই দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন লাকসাম সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সনদ বড়ুয়া। তিনি জানান, ক্লুলেস এই ঘটনার রহস্য উন্মোচনে পুলিশ ও গোয়েন্দা টিম মাঠে নেমেছে। এই ঘটনায় মনোহরগঞ্জ থানায় একটি পৃথক হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ টেস্টের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা সম্ভব হবে।









