খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ই জুলাই ২০২৬, ১১:৪৭ পিএম

গোপালগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২–এ এজলাস চলাকালে বিচারকের ছুড়ে মারা কাচের পেপারওয়েটের আঘাতে সাবিহা সুলতানা নামের এক শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবী আহত হয়েছেন। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ঘটার পর প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিচারক মো. সুজন মিয়ার আমলি ক্ষমতা (কগনিজেন্স পাওয়ার) প্রত্যাহার করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। গোপালগঞ্জ জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও বিবরণ
আদালত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২–এ বিচারিক কার্যক্রম চলার সময় পেছনের দিকে অবস্থানরত কয়েকজন আইনজীবীর মধ্যে বাক্যালাপ বা কথাবার্তা চলছিল। এ নিয়ে বিচারক মো. সুজন মিয়া অসন্তোষ ও বিরক্তি প্রকাশ করেন। তিনি প্রাথমিকভাবে নিজের টেবিলে আঘাত করে সবাইকে চুপ থাকার সঙ্কেত বা ইঙ্গিত দেন। তবে এর পরও এজলাসের মধ্যকার পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় এবং কথাবার্তা বন্ধ না হওয়ায় তিনি নিজের টেবিলে রাখা একটি কাচের পেপারওয়েট সামনের দিকে ছুড়ে মারেন।
নিক্ষেপ করা কাচের পেপারওয়েটটি এজলাসে উপস্থিত শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবী সাবিহা সুলতানার মাথার ডান পাশে গিয়ে সরাসরি আঘাত করে। এতে তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে রক্তাক্ত হন। তৎক্ষণাৎ এজলাসে উপস্থিত অন্যান্য আইনজীবীরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করে তাঁর চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
ভুক্তভোগী ও আইনজীবী সমিতির প্রতিক্রিয়া
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানা জানান, আদালত চলাকালে তিনি এজলাসে সম্পূর্ণ নীরব থেকে নিজের সেরেস্তার নথিপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছিলেন। সেই সময় আকস্মিকভাবে একটি বস্তু এসে তাঁর মাথায় সজোরে আঘাত করে এবং সাথে সাথে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি সামনে একটি কাচের পেপারওয়েট পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি আরও জানান, তাঁর কপালে কোনো সেলাইয়ের প্রয়োজন না হলেও মাথার তীব্র ব্যথা অব্যাহত ছিল।
ঘটনার পরপরই গোপালগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা বিষয়টি সম্পর্কে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গিয়ে মৌখিক অভিযোগ দায়ের করেন। জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ আলম সেলিম এই ঘটনাকে অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, কোনো বিচারকের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়। তিনি জানান, বিচারককে চূড়ান্তভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার একচ্ছত্র এখতিয়ার উচ্চ আদালতের হাতে ন্যস্ত থাকায়, তারা আপাতত ওই আদালতের সমস্ত কার্যক্রম অন্য কোনো বিচারকের মাধ্যমে পরিচালনার দাবি জানান। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাদের এ দাবি গ্রহণ করেছেন। এছাড়া, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা জজ বৃহস্পতিবার সকালে আইনজীবীদের সাথে এক বৈঠকে মিলিত হবেন বলে জানা গেছে।
মন্তব্য