জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ই জুলাই ২০২৬, ১:৪৬ পিএম

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জ্যেষ্ঠ নেতা গাজী নজরুল ইসলামের এক নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার গোড়াতেই দলের পক্ষ থেকে প্রযুক্তিগত কারসাজি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) তৈরি ‘ডিজিটাল ফেক’ বলে দাবি করা হলেও, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সে বক্তব্য থেকে সরে এসে ভিডিওর নারীকে সংসদ সদস্যের ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ হিসেবে স্বীকার করে নিয়েছে তার দল।
গত সোমবার (২০ জুলাই) রাতে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ও ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মে বিতর্কিত দৃশ্যটি ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়া ক্লিপটিতে একটি কক্ষের ভেতরে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে এক নারীর সঙ্গে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই ফুটেজটি ভাইরালে পরিণত হয় এবং নেটিজেনদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
ঘটনার শুরুতে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল পরিচালিত ‘ক্রাইম বার্তা’ প্ল্যাটফর্ম থেকে দ্রুত একটি বিবৃতি দেয়া হয়। সেখানে দাবি করা হয়, রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ডিপফেক ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে। তবে এই প্রাথমিক দাবির পরেই সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে বিতর্কের ঝড় ওঠে।
পরিস্থিতির সত্যতা যাচাই করতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে পরবর্তীতে প্রাথমিক দাবি থেকে সরে এসে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান মাওলানা আজিজুর রহমান।
দলের মিডিয়া প্রধান স্পষ্ট ভাষায় জানান, বিষয়টি নিয়ে তাদের দলীয় ভেতরে কথা হয়েছে। এমপি গাজী নজরুল ইসলাম দলকে নিশ্চিত করেছেন যে, ভিডিওতে দৃশ্যমান নারী তার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী। পারিবারিক নিয়ম ও প্রথম স্ত্রীর লিখিত সম্মতি সাপেক্ষেই বেশ কিছুদিন আগে এই বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
যদিও বিয়ের নির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কে জামায়াতের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেয়া যায়নি, তবুও ব্যক্তিগত মুহূর্তের এমন ভিডিও চিত্র কীভাবে ধারণ ও জনসমক্ষে ফাঁস হলো—তা নিয়ে দলের ভেতরে তদন্ত চলছে বলে জানানো হয়েছে। একটি গোপন ভিডিও ফাঁস হওয়া এবং পরবর্তীতে তথ্য পরিবর্তনের পেছনের আসল ঘটনা কী, তা নিয়ে এলাকার রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে এখনো নানা গুঞ্জন ও কৌতূহল বিরাজ করছে।
মন্তব্য