খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ই জুলাই ২০২৬, ৮:৩২ পিএম

উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট রায় কার্যকর না হওয়ায় গ্রামীণ ব্যাংকের প্রায় ১৪ হাজার অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনিশ্চয়তা ও মানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অবসরপ্রাপ্তদের দাবি, হাইকোর্ট পুনঃপেনশনসহ বিভিন্ন ভাতা পরিশোধের নির্দেশ দিলেও এখন পর্যন্ত ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরে দ্রুত আদালতের রায় বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে ‘গ্রামীণ ব্যাংক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতি’।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি কে এম শহীদুল হক লিখিত বক্তব্যে বলেন, ১৯৮৩ সালের অধ্যাদেশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক একটি সংবিধিবদ্ধ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। সেই হিসেবে রাষ্ট্রায়ত্ত ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সরকার ঘোষিত আর্থিক সুবিধা ও কল্যাণমূলক প্রণোদনা গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে দীর্ঘ সময় ধরে তারা এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন।
তিনি জানান, ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হাইকোর্টে দুটি পৃথক রিট আবেদন (নং ৯৫২৬/২০২১ এবং ৬৭৬৫/২০২১) দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৯ মার্চ আদালত তাদের পক্ষে রায় দেন। পরে ২০২৬ সালের ২২ জুন ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়।
পূর্ণাঙ্গ রায়ে গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুনঃপেনশন চালু করার পাশাপাশি বকেয়া উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা এবং বাংলা নববর্ষ ভাতা দ্রুত পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃত সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকার ঘোষিত আর্থিক সুবিধা ও প্রণোদনা বৈষম্যহীনভাবে গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে।
সংবাদ সম্মেলনে কে এম শহীদুল হক অভিযোগ করেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী দেশের অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান ২০০৪ সালে উৎসব ও চিকিৎসা ভাতা এবং ২০১৮ সালে পুনঃপেনশন সংক্রান্ত নির্দেশনা বাস্তবায়ন করলেও গ্রামীণ ব্যাংকে এখনো সেগুলো কার্যকর হয়নি। তার ভাষ্য, এ বৈষম্যের কারণে হাজারো অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ১৯৯৪ সালে বিতর্কিত ‘স্বেচ্ছা অবসর’ কর্মসূচির আওতায় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও অবসরে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। সেই সময় থেকে শুরু হওয়া নানা বঞ্চনার ধারাবাহিকতা এখনো শেষ হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের প্রায় এক মাস পার হলেও ব্যাংক প্রশাসন নানা প্রশাসনিক জটিলতা ও অর্থসংকটের কথা বলে রায় বাস্তবায়ন বিলম্বিত করছে। এর ফলে অনেক প্রবীণ কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে পারছেন না। কেউ কেউ জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, আদালতের নির্দেশ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে হাজারো অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে। অন্যথায় আদালতের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আরও কঠোর ও আইনসম্মত কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলেও তারা সতর্ক করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সহসভাপতি হাবিবুল ইসলাম, উপদেষ্টা গোলাম মাওলা, মহাসচিব অ্যাডভোকেট সিদ্দিকুর রহমান, অর্থ সম্পাদক আবু মোহাম্মদ মতিউর রহমানসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই একযোগে আদালতের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্তদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
মন্তব্য